শিশুদের টিকা বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত, বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা | চ্যানেল আই অনলাইন

শিশুদের নিয়মিত টিকার সংখ্যা কমিয়ে ১৮ থেকে ১১ করার সুপারিশ এবং হাম, মাম্পস ও রুবেলার (এমএমআর) টিকা আলাদাভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে এ আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুরা বর্তমানে প্রয়োজনীয় টিকার তুলনায় অনেক কম টিকা নিত। তখন মানুষ বেশি সুস্থ ছিল এবং অটিজমের বর্তমান হারের মতো পরিস্থিতিও ছিল না। তবে টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক থাকার দাবি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি। এমএমআর টিকার সঙ্গেও অটিজমের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

নতুন নির্দেশনায় সব শিশুর জন্য হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) এবং চিকেনপক্সের টিকার সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, টিকার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি এগুলো একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা সময়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে এমএমআর টিকা তিনটি আলাদা টিকায় ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। তবে এমএমআর আলাদা করে দেওয়ার কোনো চিকিৎসাগত সুবিধা রয়েছে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এমএমআর টিকার কারণে গুরুতর সমস্যা খুবই বিরল। বরং হাম, মাম্পস বা রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় টিকা নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। সিডিসি শিশুদের ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ এমএমআর টিকা দেওয়ার সুপারিশ করে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকার ডোজের মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে ওই সময়ের মধ্যে শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হলে কোনো কোনো টিকার ডোজ বাদ পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের (এএপি) সভাপতি ড. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, টিকা নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়ার কোনো চিকিৎসাগত কারণ নেই। হাম ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকা নিরাপদ ও কার্যকর এবং টিকা অটিজম সৃষ্টি করে না।

স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, পরিবর্তনের উদ্দেশ্য শিশুদের টিকা নেওয়া বন্ধ করা নয়, বরং অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ দেওয়া।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা আগের সূচির তুলনায় অনেক কম ডোজ নেবে। এর আগে ফেডারেল পর্যায়ে শিশুদের জন্য সুপারিশ করা টিকার মধ্যে ফ্লু ও কোভিড-১৯ টিকার ডোজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ট্রাম্পের আদেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প উপাদান তৈরি ও সেগুলোর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। তবে এএপি জানিয়েছে, টিকায় থাকা অতি সামান্য পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক প্রসঙ্গে একাধিক গবেষণায় এমন কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে ডেনমার্কে ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬১ শিশুকে নিয়ে করা একটি বড় গবেষণাতেও এমএমআর টিকার কারণে অটিজম হয় বা এর সূত্রপাত ঘটে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সরাসরি সব অঙ্গরাজ্যের স্কুল টিকাদান নীতি পরিবর্তন করে না। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তি বা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকা নির্ধারণের ক্ষমতা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে।

Scroll to Top