শরিফুল ইসলামকে চেয়েছিল ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্ট। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ আসে খালেদ আহমেদের সামনে। প্রথমবারের মতো কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়ে চার ম্যাচের চুক্তিতে কেন্টে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার।
উস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কেন্টের জার্সিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে খালেদের। এরপর ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষেও মাঠে নামবেন তিনি।
কাউন্টি ক্রিকেটে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত খালেদ। কেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে সাফল্য এনে দিতে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
‘কেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য আনন্দের। এখন মৌসুমের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। কেন্টকে প্রমোশন করাতে (প্রথম টায়ারে) আমি আমার সেরাটা দিতে প্রস্তুত আছি।’
কেন্টের প্রস্তাব পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি খালেদের। কারণ চলতি মৌসুমে একই ক্লাবের হয়ে খেলা বাংলাদেশের আরেক পেসার হাসান মাহমুদের কাছ থেকে কেন্টের পরিবেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া খালেদের এজেন্টও ক্লাবটি সম্পর্কে ভালো ধারণা দিয়েছিলেন।
খালেদ বলেন, ‘যখন আমি খবরটা শুনলাম তখন হ্যাঁ বলাটা আমার জন্য খুবই সহজ ছিল। হাসান এবং আমার এজেন্ট কেন্ট সম্পর্কে অনেক ভালো কথা বলেছেন। তাদের কাছে শুনেছি কেন্ট অনেকটা পরিবারের মতো। আশা করি কেন্টের সদস্য ও সমর্থকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদেরও গর্বিত করতে পারব।’
মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খালেদকে পেয়ে সন্তুষ্ট কেন্ট কর্তৃপক্ষও। দলের বোলিং আক্রমণকে দ্রুত শক্তিশালী করার পাশাপাশি মৌসুমের শেষ দিকে ভারসাম্য বাড়াতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির ক্রিকেট পরিচালক সাইমন কুক।
তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে হাসান মাহমুদের পাশপাশি খালেদ আহমেদকে ক্যান্টারবুরিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। আমরা এমন একজন বোলারকে দলে নিতে চেয়েছিলাম যিনি তাৎক্ষণিকভাবে দলকে শক্তিশালী করবে এবং মৌসুমের শেষ ভাগে দলের ভারসাম্য বাড়াবে।’
হাসান মাহমুদের পর খালেদের আগমন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কেন্টের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে বলেও মনে করছেন কুক। চলতি গ্রীষ্মে হাসান কেন্টে যোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ক্লাবটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
খালেদ বলেন, ‘চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে হাসান আসার পর থেকেই বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটপ্রেমী কেন্টকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন। এটা দেখতে খুবই ভালো লাগছে। আশা করি, খালেদের আগমনে সেই ভালোবাসা আরও বাড়বে।’
