যে কারণে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো মিরাজকে

যে কারণে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো মিরাজকে

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়কের পরিবর্তে আবারও দুই অধিনায়কের মডেলে ফিরেছে বোর্ড। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাদা বলের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস, আর লাল বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে বহাল থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

বুধবার বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তামিম বলেন, ‘আমাদের তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক ছিল। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দুইজন অধিনায়ক থাকা উচিত—একজন সাদা বলের জন্য, আরেকজন লাল বলের জন্য। সেই অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, লিটন দাস সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নাজমুল হোসেন শান্ত লাল বলের ক্রিকেটে নেতৃত্ব চালিয়ে যাবেন।’

একই সঙ্গে সাদা বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদ হৃদয়ের নামও ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি। তিনি জানান, টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে আগের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে মিরাজকে সরিয়ে দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন তামিম। তার মতে, মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে বোর্ডের কোনো অসন্তুষ্টি নেই; বরং তাকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে আরও কার্যকর দেখতে চায় বিসিবি। মিরাজের নেতৃত্বেই টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে ২৬টি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ১০ ম্যাচ। ফলে পারফরম্যান্স খারাপ বলার সুযোগ নেই।

তবু তাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তামিম বললেন, ক্রিকেটার মিরাজকেই বেশি দরকার দলের। তামিম বলেন, ‘মিরাজ একজন অত্যন্ত সফল অধিনায়ক ছিলেন। গত পাঁচটি সিরিজের মধ্যে চারটিতেই সে দলকে জয় এনে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে, মিরাজকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে বেশি প্রয়োজন। পারফরমার হিসেবে আমরা তাকে যে মানে দেখতে অভ্যস্ত, সেখানে হয়তো কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ভালো করলেও বোলিংয়ে তার আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা চাই, নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ থেকে কিছুটা মুক্ত হয়ে সে নিজের খেলায় আরও বেশি মনোযোগ দিক এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখুক।’

Scroll to Top