জি-টু-জি চুক্তিতে ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সুপারিশ | চ্যানেল আই অনলাইন

জি-টু-জি চুক্তিতে ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সুপারিশ | চ্যানেল আই অনলাইন

সরকারি দ্বিপক্ষীয় (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় এই সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সমঝোতা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রিমিয়াম, আমদানির পরিমাণ এবং প্রচলিত সূচক মূল্য বিবেচনায় ছয়টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব উত্থাপন করে।

অনুমোদনের সুপারিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল), থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারি দ্বিপক্ষীয় (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্পের একাধিক ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাস (রিভার)’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (প্রধান অংশীদার) ও আহাদ বিল্ডার্সের যৌথ উদ্যোগকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দেশব্যাপী সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার বাফার গুদাম নির্মাণে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এমবিএল-আরইএল যৌথ উদ্যোগকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (উত্তর) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সংশোধিত সমন্বিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুমোদনেরও সুপারিশ করা হয়। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুতের সমন্বিত ট্যারিফ ৪ দশমিক ০৯৪৫ মার্কিন সেন্ট বা ৫ দশমিক ০২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাব-জোন ৬, ৭, ১১ ও ১৮ এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণে ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মনিকো লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্পে (প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউডি-৪এ-বিএসএমএসএন-বেজা) ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী পরামর্শক সেবার ব্যয় ৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

Scroll to Top