যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের – DesheBideshe



বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

ঢাকা, ০২ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও সহজ করতে বর্তমানে চালু থাকা ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে শুধু ভিসা ব্যবস্থা নয়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, কৃষি ও জ্বালানি খাতে মার্কিন সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তর এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সহজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেই তিনি এ আহ্বান জানান।

জনগণের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর প্রত্যাশা করেন দীনেশ ত্রিবেদী

এ বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি কৃষিতে আরও মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জ্বালানি খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিনিয়োগ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের বিনিয়োগ ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, বৈঠকের আলোচনায় শুধু বিদ্যমান বাণিজ্য নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রও গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রপতি এটিকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।

বাজারের দরপতন ঠেকাতে ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতেও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং এ সংকট মোকাবিলায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা এই বৈঠকে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতি মূলত বিদ্যমান ব্যবস্থাটি পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে পরবর্তী পর্যায়ে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ ও সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হবে।



FAQ

১. রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল কী বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন?

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২. কবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে?

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি ওঠে।

৩. বৈঠকে আর কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে?

কৃষি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

৪. ভিসা বন্ড ব্যবস্থায় কি ইতিমধ্যে পরিবর্তন এসেছে?

না। বৈঠকে ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি; রাষ্ট্রপতি এটি পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

৫. রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে?

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

Scroll to Top