
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হ্যাকিংয়ের ঘটনায় চুরি হওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদের ৯০ শতাংশের ক্ষতি পূরণ করা হয়েছে। তবে বাকি ১০ শতাংশের অর্থ সংগ্রহ করতে আরও সময় লাগতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে এটিকে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাইন্যান্স। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স বলেছে, ‘চুরি হওয়া সম্পদের আর্থিক ক্ষতির দায় প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে, ব্যবহারকারীরা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শনিবার জানিয়েছে, এই হ্যাকিংয়ের জন্য নর্থ কোরিয়া দায়ী। এর আগে দুটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিবিসিকে জানিয়েছিল, নর্থ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকার গোষ্ঠী লাজারাস গ্রুপ, যারা ট্রেডারট্রেইটার নামেও পরিচিত, এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে তাদের কাছে জোরালো গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এফবিআইও তাদের বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির নাম উল্লেখ করেছে। তবে সাইবার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে নর্থ কোরিয়া।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, বিভিন্ন তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোষাগার থেকে অর্থ নিয়ে চুরি হওয়া সম্পদের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, টেথারসহ আরও সাতটি বহুল লেনদেন হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্পদ এই ক্ষতিপূরণের আওতায় রয়েছে।
এখন ব্যবহারকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলন সেবা পুনরায় চালু করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত হলে আরও তথ্য জানানো হবে।
বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক করে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি করা হয়। তবে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নিরাপত্তাব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের আরও কিছু পথ শনাক্ত হয়েছে।
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেন, একাধিক ব্যক্তি মিলে এই হ্যাকিং চালিয়েছে। পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের চিহ্ন আড়াল করতে হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা বা ‘সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজম’সহ অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
শুক্রবার বাইন্যান্স জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে চুরি হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও শুক্রবার জানিয়েছে, বাইন্যান্স থেকে চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত, জব্দ, লেনদেনের গতিপথ অনুসরণ ও উদ্ধারে বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে তারা কাজ করছে।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচা ও লেনদেনের সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৪ সালে বাইন্যান্স জানিয়েছিল, তাদের তত্ত্বাবধানে ১৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে।
হ্যাকিংয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়। শুক্রবার নিউইয়র্কে লেনদেনের সময় বিটকয়েনের দাম ৫ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে আসে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…



