
গাজা, ১৯ জুলাই – বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনালের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও বইছে অভূতপূর্ব উন্মাদনা। তবে গাজাবাসীর এই ফুটবল প্রেমের পেছনে কাজ করছে গভীর এক মানবিক আবেগ।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাওয়া স্পেনের প্রতি নিজেদের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ করছেন ফিলিস্তিনিরা। খেলার মাঠ ছাপিয়ে স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানই গাজাবাসীকে দলটির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে স্পেন সরকারের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান গাজার মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান তৈরি করেছে।
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ভয়াবহ সংকটের কারণে গাজার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। তীব্র জ্বালানি সংকট ও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যেখানে একটি ম্যাচ দেখা প্রায় অসম্ভব, সেখানেও ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিষাদ ভুলে থাকতে চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে ফাইনালের আদলে ফিলিস্তিন ও স্পেনের মধ্যে একটি প্রতীকী প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ভিএআর প্রযুক্তিসহ পেশাদার সব নিয়ম মেনে আয়োজিত এই ম্যাচটি ছিল স্পেনের প্রতি গাজাবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি ভিন্নধর্মী প্রয়াস।
ফিলিস্তিনিদের স্পেনের প্রতি এই অনুরাগের নেপথ্যে রয়েছে গত মে মাসে স্প্যানিশ সরকার কর্তৃক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান। এ ছাড়া বার্সেলোনা তারকা লামিন ইয়ামাল ও কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলার মতো ব্যক্তিদের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ তাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে।
গাজা আল ইরাদা ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এই সমর্থন মূলত তাদের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান।
আর্জেন্টিনা দল বা লিওনেল মেসির ফুটবলীয় দক্ষতা নিয়ে গাজাবাসীর মনে গভীর শ্রদ্ধা থাকলেও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়ে তাদের কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় ভক্তদের মতে আর্জেন্টিনা যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয় হবে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন গাজার বাতাসে কেবলই প্রার্থনা, এবারের বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি যেন স্পেনের হাতেই ওঠে।
এস এম/ ১৯ জুলাই ২০২৬







