
ছবি: সংগৃহীত।
আবারও কর্মী ছাঁটাই করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এবার প্রতিষ্ঠানটির ফিটনেস প্লাস সেবার অডিও বিভাগে থাকা অল্পসংখ্যক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি অ্যাপলের দ্বিতীয় দফা কর্মী ছাঁটাই।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে বেশ সতর্ক। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে।
অ্যাপলে বাদ পড়া কর্মীরা মূলত টাইম টু ওয়াক এবং টাইম টু রান ফিচারে কাজ করতেন। এগুলো অ্যাপল ওয়াচের বিশেষ অডিও ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ভিডিও না দেখেই ব্যায়ামের অডিও নির্দেশনা পেয়ে থাকেন। তবে ফিটনেস প্লাস সেবাটি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। আগামীতে শুধু নতুন অডিও কনটেন্ট প্রকাশের হার কমে যেতে পারে।
এর আগে অ্যাপলে যা ঘটেছে
এর আগে গত আগস্টে অ্যাপল দুই শতাধিক কর্মী ছাঁটাই করেছিল। ওই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছিল সিরি, ভিশন প্রো এবং ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস এক্সপেরিয়েন্স টিমের ওপর।
ভিশন প্রো বিভাগ থেকে তখন প্রায় ১০০ কর্মীকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া সিরি ও অন্যান্য সফটওয়্যার টিম থেকেও আরও প্রায় ১০০ জনের চাকরি যায়।
তখন অ্যাপল জানিয়েছিল, ব্যবসার বিকাশ এবং ব্যবহারকারীদের আরও ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন টিমে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছিল, কিছু পদ বিলুপ্ত হলেও নতুন কিছু পদ তৈরি করা হবে।
এবারের ছাঁটাইয়ের বিশেষত্ব কর্মীর সংখ্যা নয়। বরং আগের দফার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল।
যে কারণে অ্যাপল আবারও কর্মী ছাঁটাই করছে
ফিটনেস প্লাস ব্যবসায় প্রতিনিয়ত নতুন কনটেন্ট যোগ করতে হয়। এর সঙ্গে বড় অঙ্কের উৎপাদন খরচ জড়িত। গ্রাহক সংখ্যা কমে গেলে তা এই ব্যবসার অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপল এখন ফিটনেস প্লাসের খরচ কমানোর পথ খুঁজছে। তারা এর কিছু ফিচারকে হেলথ অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিষয় বোঝাতে হেলথ অ্যাপে ভিডিও কনটেন্টও যুক্ত করার কাজ চলছে।
এ কারণে অ্যাপলের বৃহত্তর স্বাস্থ্য কৌশলে ফিটনেস প্লাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ ছাঁটাইকে ফিটনেস প্লাস বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখার কারণ নেই।
এআই বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজার
প্রযুক্তি খাতে কাজের ধরনে এখন ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। কোম্পানিগুলো এআইয়ের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ফলে সাধারণ সফটওয়্যার তৈরি, সাপোর্ট এবং ব্যাক-অফিসের কাজে আগের চেয়ে কম লোক লাগছে।
দিল্লি-এনসিআর ক্যাম্পাসের ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. অভিনব পি ত্রিপাঠি এ বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি জানান, গত দুই বছরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। তারা এখন যে কোনো মূল্যে প্রবৃদ্ধির চেয়ে লাভের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
তার মতে, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ায় সফটওয়্যার উন্নয়ন, সাপোর্ট এবং ব্যাক-অফিসের অনেক রুটিন কাজ এখন আগের তুলনায় কম কর্মী দিয়েই করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে এর অর্থ প্রযুক্তি খাতে চাকরি শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। বরং প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরন বদলে যাচ্ছে।
ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য কী বার্তা?
অ্যাপলের এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার, বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা বড় একটি কর্মী বাহিনী রয়েছে ভারতে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমে গেলে বা পুনর্গঠন হলে চাকরির সুযোগ, বেতন বৃদ্ধি এবং ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। অটোমেশনের কারণে বিদ্যমান কর্মীরাই বেশি কাজ সামলাতে পারলে কোম্পানিগুলো এন্ট্রি লেভেলে বড় সংখ্যায় নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে।
ড. ত্রিপাঠি বলেন, ভারতের ক্ষেত্রে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব মিশ্র হতে পারে।
তার মতে, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার, বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আউটসোর্সিং কোম্পানিতে কর্মরত হাজারো পেশাজীবীর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এন্ট্রি লেভেলের চাকরি পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে। কারণ কোম্পানিগুলো নিয়োগ কমানোর পাশাপাশি প্রথম দিন থেকেই কর্মীদের উৎপাদনশীলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে এর পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের কিছু অংশে বেতন বৃদ্ধির গতিও কমতে পারে বলে জানান তিনি।
তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ত্রিপাঠির মতে, কর্মী ছাঁটাই মানেই প্রযুক্তি খাতে চাহিদা কমে যাওয়া নয়। এটি মূলত দক্ষতার পরিবর্তিত চাহিদাকে নির্দেশ করে। বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন খাতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে এআই ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স অন্যতম।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
