ফখরুল-রিজভীর নতুন দায়িত্বে উজ্জীবিত বিএনপির তৃণমূল | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। একই সময়ে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ে দুই নেতার নতুন দায়িত্বকে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের মতে, দুঃসময়ে যারা দলের পাশে থেকেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কর্মীরাও ত্যাগ ও নিষ্ঠার রাজনীতিতে উৎসাহিত হন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরই রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার ঘোষণা আসে।

একই দিনে দুই নেতার নতুন দায়িত্বের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। কোথাও মিষ্টি বিতরণ করা হয়, আবার কোথাও বের করা হয় আনন্দ মিছিল।

মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের বিভিন্ন সংকট ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। মামলা ও নানা চাপের মধ্যেও দলের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়। ২০ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং শুক্রবার (২১ আগস্ট) শপথ নেন।

অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভীও বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত। দলের বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। গত ১৫ আগস্ট সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি। এবার তাকে দেওয়া হলো ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, দুই নেতার নতুন দায়িত্ব দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করা নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরও উৎসাহিত হন।

দলের মহাসচিব পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দলের নেতাদের মধ্যে নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও মির্জা ফখরুল ও রিজভীর নতুন দায়িত্বকে তিনি ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর সামনে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বড় দায়িত্ব রয়েছে। কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করা হবে তার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মির্জা ফখরুল ও রিজভীর মূল্যায়নে দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে।

মির্জা ফখরুলের নেতৃত্ব, শিক্ষকতা পেশা ও সাংস্কৃতিক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সংবেদনশীল, জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গেছে বলে অনেকে মনে করছেন। একই সঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও পরিশ্রমেরও মূল্যায়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রিজভীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, মির্জা ফখরুল ও রিজভী দুজনই তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। তাদের মূল্যায়নের ফলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হবেন। সঠিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারলে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা ছিল, তাদের উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

রিজভীর অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজপথের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার এই মূল্যায়ন প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দল তার নিষ্ঠাবান নেতাদের অবদানের মূল্যায়ন করে, এমন বার্তাও গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিএনপির কয়েকটি জেলার নেতারা জানান, দলের শীর্ষ পর্যায়ে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন হলে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়।

জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জেলা, থানা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তাদের আশা, মির্জা ফখরুল ও রিজভীর নতুন দায়িত্বকে কেন্দ্র করে দল আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়বে।

Scroll to Top