
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের অনুরোধ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে কিয়েভ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার রাতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের কস্তোভো তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। এর আগে সামারা অঞ্চলে রুশ রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলা চালায় ইউক্রেন।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, হোয়াইট হাউসের চাপে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে কিয়েভ। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার অনুরোধে কিয়েভ কখনো সম্মতি দেয়নি।
রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার থেকেই রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলা আবার শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্রেমলিনের অভিযোগ, কিয়েভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উপেক্ষা করছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেন তিনি।
সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনস্কি। তবে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী একটি প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ অভিযানে রাশিয়ার একটি প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এ ধরনের অভিযানকে তিনি ইউক্রেনের ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতেই পাল্টা অভিযান চালাতে হচ্ছে। রোববার রাতেও ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার হামলার তীব্রতা অনেক বেশি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থার ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো। রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববার সেখানে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।
জেলেনস্কির দাবি, গত অক্টোবর মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার ৪০০ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে রুশ বাহিনীর এটিই সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি। একই সময়ে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া এর চেয়ে ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার কম এলাকা দখল করতে পেরেছে। এ পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া হারছে।’
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…





