জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে পুষ্টিবিদ ও পথ্যবিদদের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান | চ্যানেল আই অনলাইন

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে পুষ্টিবিদ ও পথ্যবিদদের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

দেশের জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং প্রমাণভিত্তিক পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে পুষ্টিবিদ ও পথ্যবিদদের (ডায়েটিশিয়ান) ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, রোগীর দ্রুত আরোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল পথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘উন্নত রোগীসেবা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক্যাল পথ্যবিদ্যার অগ্রগতি’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক, পথ্যবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) পরিচালক ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর পুষ্টিবিদদের গবেষণায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফল জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধু চিকিৎসানির্ভর না রেখে প্রতিরোধকেন্দ্রিক করতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা ও দক্ষতা—উভয়ই বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে পুষ্টিবিদদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং মূল চিকিৎসা ব্যবস্থায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায় পর্যন্ত পথ্যবিদদের কার্যকরভাবে নিয়োজিত করা, এ পেশার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যতে ডায়েটিশিয়ানদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক (রেগুলেটরি) ব্যবস্থা চালু করা হবে বলেও জানান।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারডেম হাসপাতালের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন্নাহার মহুয়া। তিনি বলেন, অপুষ্টি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক পুষ্টিসেবার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশের সদস্য সাইদ মো. বাকী বিল্লাহ টুটুল এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডায়েটিশিয়ান তামান্না চৌধুরী। সমাপনী বক্তব্য দেন কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের চিফ ডায়েটিশিয়ান চৌধুরী তাসনিম হাসিন।

আলোচনায় হেলথ সেক্টর রিফর্ম কমিটির সদস্য ও গবেষক ডা. লিয়াকত আলী পেশাদার ডায়েটিশিয়ানদের জন্য সরকারি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) ও লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে দেশে ক্লিনিক্যাল পুষ্টি ও পথ্যসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনাকে সমান গুরুত্ব দিলে রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত আরোগ্য এবং দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

Scroll to Top