ক্যান্সারের ওষুধের ঘাটতি: ভারতীয় ওষুধের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

ক্যান্সারের ওষুধের ঘাটতি: ভারতীয় ওষুধের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো ক্যান্সার। এই রোগে নির্ধারিত ওষুধের ঘাটতি ডাক্তার ও রোগী উভয়ের জন্যই বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি এই ক্যান্সারের ওষুধ ইফোস্ফামাইডের ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কাছে সাহায্য চেয়েছে।

মঙ্গলবার ২৩ জুন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইফোস্ফামাইডের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাক্সটার ইন্টারন্যাশনালের পরিচালিত একটি চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন কেন্দ্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ওষুধটির ঘাটতির জন্য দায়ী। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে এই ওষুধ সরবরাহে সৃষ্ট ব্যাঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রতিবন্ধকতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উৎপাদন ও স্থানান্তরে প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে মার্কেটে এই ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইফোস্ফামাইডের সরবরাহ সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ তারা তাদের চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে এই ওষুধের উপর নির্ভরশীল।

ইউএসএফডিএ কেন ভারতের দিকে ঝুঁকেছে?

সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের কারণে ভারতকে ব্যাপকভাবে “বিশ্বের ঔষধালয়” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের মতো অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত মার্কেটগুলোর জন্য ওষুধ উৎপাদনে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভারতে প্রায় ১০ হাজার ৫০০টি ওষুধ উৎপাদনকারী ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫০টিরও বেশি মার্কিন এফডিএ দ্বারা পরিচালিত। ভারত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করে, যা দেশটিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভারতের অনেক ওষুধ কোম্পানি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত এবং প্রয়োজনে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে সংকটকালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ঘাটতি মেটাতে ভারতের ওষুধ খাতকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।

এই নির্ভরযোগ্যতা ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যারা কঠোর আন্তর্জাতিক মান পূরণকারী ক্যান্সার বা অনকোলজি ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম। রপ্তানি বৃদ্ধি ওষুধ সংস্থাগুলোর আয় বাড়াতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজারে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, বরং একটি নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবার অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ভারত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে টিকা, জেনেরিক ওষুধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পণ্য সরবরাহ করেছে। ক্যান্সারের ওষুধের ঘাটতির সময়ে এগিয়ে আসা ভারতের সেই সুনামকে আরও শক্তিশালী করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের অগ্রগতি ভারতের অভ্যন্তরে ওষুধ উৎপাদনের অবকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং গবেষণা সক্ষমতায় আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

যখনই বিশ্বব্যাপী ওষুধের চাহিদা বাড়ে, তখনই সব দেশে এর প্রাপ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে, বর্ধিত রপ্তানির কারণে ভারতীয় রোগীরা আইফোস্ফামাইডের ঘাটতির সম্মুখীন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো সাধারণত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করে। তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা সবসময় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে যখন ক্যান্সারের ওষুধের মতো জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার বিষয় আসে।

ক্যান্সারের ওষুধের সহজলভ্যতা কেন জরুরি

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যান্সার। তাই নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসার জন্য আইফোস্ফামাইডের মতো কেমোথেরাপির ওষুধ অনেক রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ওষুধ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিলম্ব বা সংকট চিকিৎসকদের চিকিৎসার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে, বিকল্প খুঁজতে বা থেরাপি বন্ধ রাখতে বাধ্য করতে পারে, যা রোগীর সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ক্যান্সারের ওষুধের সরবরাহের ওপর বিশেষভাবে নজর রাখেন এবং যখনই ঘাটতি দেখা দেয়, তখন সংকট কমানোর জন্য কাজ করেন। যদিও ক্যান্সারের ওষুধের ঘাটতি মোকাবেলা করাই এখন মূল লক্ষ্য, তবে এর বৃহত্তর বার্তাটি স্পষ্ট: ভারত বিশ্বব্যাপী ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতে এর ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Scroll to Top