
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও লর্ডদের একটি গ্রুপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, এআই দ্রুত এগিয়ে চললেও এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আইন পিছিয়ে পড়ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়।
মানবাধিকার বিষয়ক যৌথ কমিটি সংক্ষেপে জেসিএইচআর একটি বিল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। কমিটির মতে, বর্তমান আইনগুলো এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়, যার ফলে এআই মানবাধিকারের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
লেবার পার্টির এমপি অ্যালেক্স সোবল এই কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি এআইয়ের বর্তমান আইন নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের কোথাও এআই নিয়ে কার্যকর কোনো আইন নেই।
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, এআই দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে যা একই সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি আরো বলেন, এআই পরীক্ষা ও বোঝার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্য নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সম্পদসমৃদ্ধ নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এটি মানুষকে নিরাপদ রাখতে ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড তৈরিতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
শনিবার মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই নিয়ন্ত্রণে একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন।
আমোদেইয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ, পুরো শিল্পখাতজুড়ে নিয়ন্ত্রণ এবং এআই মডেল তৈরির সময় স্বাধীনভাবে সেগুলো পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা।
তিনি এআই উন্নয়নের গতি কমানোরও আহ্বান জানান। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও তার সঙ্গে একমত বলে জানান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবাধিকার নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগ সামনে এসেছে। ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্যের ওপর এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পক্ষপাত তৈরি হতে পারে। এসব তথ্যের মধ্যে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান থাকতে পারে। বর্ণবাদী ও যৌনবাদী কনটেন্ট এর মধ্যে অন্যতম।
এআই ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য তৈরি করা সম্ভব। সেই তথ্য খুব সহজে ছড়িয়েও দেওয়া যায়।
জেসিএইচআর ১০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে এআইয়ের কারণে ইতোমধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনা ঘটেছে।
উদাহরণ হিসেবে কমিটি নারীদের আপত্তিকর ছবি তৈরির কথা উল্লেখ করেছে। এছাড়া অনুমতি ছাড়া মানুষের মুখ স্ক্যান করার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছে।
জেসিএইচআর একটি স্বাধীন একক এআই তদারকি সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছে। এই সংস্থাটি সম্পূর্ণ আইনি ভিত্তিতে কাজ করবে।
কমিটির মতে এআইয়ের বর্তমান আইনি কাঠামো বিভক্ত ও জটিল। এর ফলে সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে এআই বিলে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাসের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
উচ্চঝুঁকির এআই সিস্টেমের জন্য আরও কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা জরুরি। এআইয়ের পুরো জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। নকশা ও পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সচেতন করতে হবে। তাদের দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন নিশ্চিত করাও জরুরি।
এআইয়ের কিছু ব্যবহার সরাসরি নিষিদ্ধ করা উচিত। কারণ সেগুলো মানবাধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ।
অবচেতনভাবে প্রভাব বিস্তারকারী কৌশল এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া বায়োমেট্রিক তথ্যের অনুপযুক্ত ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
অ্যালেক্স সোবল এআইকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক নজিরবিহীন যুগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এটি ভালো বা খারাপ যেকোনোভাবেই আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে। প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত ও জটিলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সঠিকভাবে অনুমান করা আসলেই কঠিন। তবে এর সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলায় আমরা মোটেও প্রস্তুত নই।
জেসিএইচআর কমিটিতে মোট ১২ জন সদস্য রয়েছেন। তারা যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ থেকে এসেছেন। লেবার ও কনজারভেটিভ দলের প্রতিনিধিরা সেখানে আছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের এমপি ও লর্ডরাও এই কমিটিতে রয়েছেন।
সোমবার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ঠিক একই সময়ে এআইয়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে।
অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন বলেন, এআই সিস্টেম তৈরির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই আতঙ্কিত।
তবে অ্যানথ্রপিকের এক মুখপাত্র বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন তারা শিল্পখাতের সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। এগুলো দিয়েই তারা নতুন এআই মডেল তৈরি করছেন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
