আরেকটা সেমিফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দলের একই অবস্থা। ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতায় ভারতের কাছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। দারুণ এই জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। কদিন আগে এশিয়া কাপেও সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ নারী দল।
জাপানের নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ওপেনার দিলারা আক্তার। শারমিন আক্তার করেন ১০ এবং সুলতানা খাতুনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। এই তিনজন ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
মাত্র ৪৯ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও রাবেয়া খান কোনো রান না করেই বিদায় নেন। দুজনেরই আউট ছিল গোল্ডেন ডাক। এরপরও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অলআউট হয় তারা।
ভারতের বোলারদের মধ্যে নন্দানি ও দীপ্তি শর্মা নেন তিনটি করে উইকেট। শ্রী চরানি পান দুটি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ক্রান্তি গৌদ ও শ্রেয়াঙ্কা পাতিল।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন শেফালি ভার্মা। পুরো ইনিংসজুড়ে অপরাজিত থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত।
শেফালির সঙ্গে ইনিংসের শুরুতে ৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন স্মৃতি মান্ধানা। ১৯ বলে ৩৭ রান করে আউট হন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার রেকর্ড গড়েন মান্ধানা। নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে তাঁর রান এখন ৪৭৮৮।
এরপর ১০ বলে ৩ রান করে ফেরেন গুনালান কামালিনি। বাংলাদেশের বোলার সানজিদার বলে রাবেয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৮৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ভারত।
তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন শেফালি। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে বড় জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। ৩৩ বলে ৪০ রান করে হারমানপ্রীত আউট হওয়ার পরও থামেননি শেফালি।
শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৩টি চার। ভারতীয় ইনিংসের শেষদিকে রিচা ঘোষ ২ রান করে আউট হলেও শেফালির ব্যাটে বড় সংগ্রহ পায় ভারত। ভারতি ফুলমালি ৪ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে মারুফা, সানজিদা, রাবেয়া ও নাহিদা একটি করে উইকেট নেন।
