আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্ট জিততে ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৯ রানের বিশাল লিড দাঁড় করিয়ে বোলিংয়েও চাপ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮ রানেই আফগানদের দুই উইকেট তুলে নেয় সফরকারীরা। তবে পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আফগানরা। ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে আফগানিস্তান।
আফগানিস্তান এখনো পিছিয়ে ৩৪৭ রানে। টেস্টের শেষ দিনে এতো রান করতে হলে মিরাকল ঘটাতে হবে। আফগানরা হয়ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে। সেটাও নিশ্চয় সহজ হবে না, কারণ হাতে মাত্র ৭ উইকেট। দলের সেরা ব্যাটার রহমত শাহ ফিরে গেছেন আজ চতুর্থ দিনেই। সকালের আদ্রতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কিছু উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচ জেতা আরও সহজ হবে বাংলাদেশের।
আবুধাবিতে চতুর্থ ইনিংসে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ওভারেই এবাদত হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ হন আব্দুল মালিক। ৫ বলে ২ রান করে ফেরেন প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা এই ওপেনার। সপ্তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে একইভাবে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দেন শহিদুল্লাহ কামাল। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। ২৮ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান।
সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন সেদিকুল্লাহ ও রহমত শাহ। তৃতীয় উইকেটে ৮২ রান যোগ করেন দুজন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা রহমত শুরুতে ১৬ রানে জীবন পেলেও পরে তুলে নেন অর্ধশতক। তবে তাঁর ইনিংস থামে ৫১ রানে। এবাদতের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
রহমতের বিদায়ের পর আর কোনো উইকেট হারায়নি আফগানিস্তান। সতর্ক ব্যাটিংয়ে দিন পার করেন সেদিকুল্লাহ ও হাসমতুল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ হয়েছে ২২ রান। সেদিকুল্লাহ ৩৫ এবং হাসমতুল্লাহ ১৯ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। লিটন দাসের ১০২ রানের সেঞ্চুরির পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ৫২ রান বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে সাহায্য করে বাংলাদেশকে। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ৮১ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ রান করেন।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে পাঁচ উইকেট নেন এবং তার মধ্যে হ্যাটট্রিক তুলে নেন। এবাদত হোসেন শিকার করেন চার উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে অনেকটা এগিয়ে রেখেছেন দুই পেসার।




