অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বল-ব্যাট দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে চলা বাংলাদেশ হঠাৎ তিন উইকেট হারিয়ে হুট করেই বিপদে পরেছিল। তবে সেই বিপদ কাটিয়ে উঠার ইঙ্গিত মিলল দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে। বাংলাদেশের লিড ইতোমধ্যেই দেড়শ ছাড়িয়েছে।
ডারউইনে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গিয়েছিল ১৯৮ রানেই। অর্থাৎ ১৫৩ রানের লিড পেয়েছে সফরকারীদের। লিডটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার ভালো সুযোগই আছে। কারণ হাতে এখনো চারটি উইকেট।
দিন শেষে ৩২ রানে অপরাজিত মেহেদি হাসান মিরাজ। তার সঙ্গে ১৩ রানে দিন শেষ করেছেন বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত একটা সেঞ্চুরি করেছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৮৪ রানের একটা ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে দলে জায়গা পাকা করার পর পাকিস্তান সিরিজে টেস্টে অভিষেক হয় তানজিদ তামিমের। আজ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই পেলেন দারুণ একটা সেঞ্চুরি, তাও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে।
ডারউইনে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর সময় মুমিনুল হক অপরাজিত ছিলেন ৩৫ রানে, তানজিদ হাসান তামিম অপরাজিত ছিলেন ৩২ রানে। দিনের শুরু থেকে অজি পেস সামলে দারুণভাবে এগিয়েছেন দুজন। তবে ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে জস হ্যাজেলউডের বলে ক্যাচ তুলে দেন মুমিনুল। ৯৫ বল খেলে ৮টি চারে তার ইনিংসটি থেমেছে ৪৯ রানের মাথায়।
তবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম ভুল করেননি। ফিফটি পূর্ণ করেছেন, পরে সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন। নাথান লায়নকে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। লায়নের পরের ওভারেই ফিরেছেন ব্যক্তিগত ১০১ রানের মাথায়। তার ১৯৭ বলের ইনিংসটি সাজানো ৮টি চার ১টি ছক্কায়।
তামিম ফেরার পর শান্তকে নিয়ে বড় জুটির পথে এগুচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দুজনেই অজিদের খেলছিলেন সাবলীল। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৪ রানের মাথায় হ্যাজেলউডের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত। তার ১২৬ বলের ইনিংসটিতে চারের মার ৭টি, ছক্কা ১টি।
খানিক বাদে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ফেরেন ব্যক্তিগত ৩৬ রানে। চোট ফেরা লিটন দাস পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই আউট। ৩ উইকেটে ২৮৭ থেকে ৬ উইকেটে ৩০৬ হয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে তারপর শেষ বিকেলে পেসার হাসান মাহমুদকে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন মেহেদি হাসান মিরাজ। দুজন মিলে শেষ বিকেলে আর উইকেট পরতে দেয়নি সফরকারীদের।
তাতে পেসার হাসান মাহমুদর দারুণ অবদান। ১৩ রান করার বিপরীতে ৭৬টি বল খেলেছেন তরুণ পেসার। আর মেহেদি মিরাজ ৭৩ বলে ৩ চারে ৩২ রানে অপরাজিত।
হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট।
