এখানকার এক বাড়ির স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে আরেকটির মিল নেই। তবে সব বাড়িই যেন মন কাড়ে। কোনো বাড়ি কাচে ঘেরা, কোনো বাড়িতে কংক্রিটের পাশাপাশি কাঠের কাজ, কোনো বাড়ির দেয়াল-ফটক-বারান্দা সব কারুকাজে পূর্ণ। আবার কোনো বাড়ি লতাপাতা ও গাছপালায় ছেয়ে আছে। কোনো বাড়ি সেজেছে ফুলে ফুলে।
প্রত্যেক মালিক যেন নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বাড়িগুলো সাজিয়েছেন। বিশেষ করে বাড়ির সামনের অংশটুকু। কেউ কয়েক ফুট ফাঁকা রেখে সেখানে সবজি চাষ করছেন, কেউ বাড়ির কোনার অংশে লাগিয়েছেন ফুলের গাছ। কেউ বাড়ির সামনে কাঠের স্থাপত্য স্থাপন করেছেন, কেউ বারান্দায় টবে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লাউয়ের চাষ করছেন। বাড়ির ছাদগুলোও যেন বনভূমিতে রূপ নিয়েছে। বাড়ির প্রাঙ্গণও সেজেছে ছোট–বড় টবে বাহারি ফুল-লতাপাতা-গাছপালায়।
কোনো কোনো প্লটে নতুন করে ভবন তৈরি হচ্ছে। অনেক প্লট এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানেও গাছপালা লাগানো হয়েছে কিংবা চাষ করা হচ্ছে নানা সবজির। সড়ক বিভাজকেও আম, কাঁঠাল, কামরাঙা, রেইনট্রিসহ ছোট–বড় অনেক গাছপালা। এই আবাসিক এলাকা ঘুরলে এত প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যাবে যে উদ্ভিদবিশেষজ্ঞ না হলে সব চেনা দায়। ফুল, লতাপাতা ও গাছপালায় ফড়িং, শালিক, চড়ুই, কাকসহ নানা প্রজাতির পাখির দেখাও মেলে। সুনসান নীরবতার মাঝে যে কাউকে মুগ্ধ করবে পাখির ডাক।
এই আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলো এমন করে করা যে প্রতিটি বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সব বাড়ির সামনের সড়কই পাকা।
২১ ডিসেম্বর দুপুরে এই আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, ভেতরটা সুনসান নীরব। যেতে যেতে চোখে পড়ল বাড়ির বারান্দায় বসে রোদ পোহাচ্ছেন কোনো বৃদ্ধ। কোনো বাড়ির সামনে বাঁধা পোষা কুকুর । কখনো কখনো দু–একটা ব্যক্তিগত গাড়ি চলছে। কিছুক্ষণ পরপর দু-একজন গাড়িচালক, কাজের লোক ও তাঁদের ছেলেমেয়ের দেখা মেলে।
দুটি ফটক ছাড়া প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ এখানে নেই। বিনা অনুমতিতে বাইরের কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে এখানকার ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান গড়ে ওঠেনি। নেই কোনো হকারের উৎপাত। নিরাপত্তা নিয়েও কারও মধ্যে শঙ্কা নেই। এই আবাসিক এলাকার নিরাপত্তায় ২৯ সদস্যের একটি নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে।
পুরো এলাকায় একটি মাত্র মুদিদোকান। এখানকার আবাসিক সমিতি একটি বহুমুখী ইউটিলিটি শপ তৈরি করছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সেটা চালু হলে এই মুদিদোকানও তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেল।


