স্বস্তি নেই বাজারে, ভরা মৌসুমেও সবজির দাম চড়া

স্বস্তি নেই বাজারে, ভরা মৌসুমেও সবজির দাম চড়া

‘জিনিসপত্রের যে দাম, আমাদের আর সংসার চলে না। আমি গার্মেন্টসে কাজ করে ১২ হাজার টাকা পাই। ঘরভাড়া দিলে বাজারের টাকা থাকে না। ছুটির দিন দেখে সকাল সকাল শাকসবজি কিনতে আসলাম। এক মুঠো শাকের দাম ২৫-৩০ টাকা। কয়েকদিন আগেও ১০ টাকা দিয়ে এক মুঠো শাক কিনেছি।’ শীতের ভরা মৌসুমেও শাকসবজির দাম চড়া বলে কথাগুলো বলছিলেন গার্মেন্টস কর্মী সাজিনা বেগম।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ বাজার করতে আসেন সদরঘাট শ্যামবাজারে। রাজধানীর অন্যতম পাইকারি আড়ৎ বসে এখানে। নদীপথে চলাচলের সহজলভ্যতায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্য কিনে এই বাজারে ওঠান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

ব্যাংকার জামিল হাসানের সঙ্গে সবজির বাজারে কথা হয়। তিনি বলেন, শীতের মৌসুমেও শাকসবজির দাম কমে না। সপ্তাহে একদিন এখান থেকে বাজার করি। দাম শুধু বাড়ে, কমে না। তবে এখানে পাইকারিদের কাছ থেকে কিনলে দাম কিছুটা কমে পাই, তাই আসি। পাড়া-মহল্লায় বাজার থেকে তো জিনিস কেনাই দায় হয়ে পড়েছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহের ছুটির দিন শ্যামবাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এদিন গরু মাংস প্রতি কেজি ৭০০ টাকা, মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬৮ টাকা, আটাশ চাল ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ১০০ টাকা, মাশকলাই ১৮০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, চিনি ১৪০ টাকা, সরিষার তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে রমজানকে সামনে রেখে বেড়েছে ছোলার দাম। গত সপ্তাহে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। মটরের দাম প্রতি কেজি ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা, প্যাকেট লবণ ৪০ টাকা ও খোলা বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। আটা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫-৫৫ টাকায়। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৫ ও পামওয়েল ১৩৫ টাকা।

হক এন্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। রমজানে আরও বাড়বে।’ তবে দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে চাননি।


দাম বাড়ার তালিকায় যোগ হয়েছে মুরগিও। পোল্ট্রি মুরগি প্রতি কেজি ১০ টাকা বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি প্রতি কেজি ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির সঙ্গে দাম বেড়েছে মাছেরও। বড় চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি, ছোট চিংড়ি ৬০০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৩৫০ টাকা কেজি, ছোট টেংরা ৫০০ টাকা কেজি, ইলিশ ১৮০০ টাকা কেজি, পাঙ্গাসের কেজি ১৬০-২০০ টাকা করে।

মাছ ব্যাবসায়ী মো. শাহিন বলেন, গত সপ্তাহেও মাছের দাম কম ছিল। এখন ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্রেতাও অনেক কমে গেছে। আমরা চাই দাম কম থাকুক। তাহলে মানুষ কিনতে আসবে। দাম বাড়লে ক্রেতা কমে যায়।

এদিন পাইকারি বাজারে ফুলকপি সাইজ অনুযায়ী ২৬-৩৫ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা, শিম ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, বেগুন ৬০-৬৫ টাকা, টমেটো ৪০-৪২ টাকা, ধনেপাতা ৩৫ টাকা, মূলা ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।


শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সাহা বলেন, শীতকালে সবজি যতই বেশি থাকুক আমরা দাম কমাতে পারছি না। খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যাত্রা খরচ, লেভার খরচ; অনেক বেশি দিতে হয়। সামনে রমজানে অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ালে আমাদেরও দাম বাড়িয়ে দিতে হবে। বাজারের ক্ষেত্রে একটা আরেকটার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

Scroll to Top