নরসিংদীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করতে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পযর্ন্ত নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল প্রাঙ্গণে এই বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ স্কুলের নানা অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কথা জেনে অভিভাবকরা স্কুলে আসলে তাদেরকে গালাগালসহ অপমান করেন প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার। এই অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরিন স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে বিক্ষোভ স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালরে প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। আজ বৃহস্পতিবার স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পূর্ব নিধারিত বিদায় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগত শিক্ষার্থীদের স্কুলে বা অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে দিচ্ছিল না। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে দিলেও ৫ মিনিটের মধ্যেই বিদায় অনুষ্ঠান শেষ করে দেন। এতে ফুঁসে উঠে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন প্রধান শিক্ষক।
এছাড়া বিদায় অনুষ্ঠান বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ নিয়ে নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। টিফিনেও নিম্ন মানের খাবার দেওয়ার প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। শীতের সকালে দৈনিক সমাবেশের নামে শিক্ষার্থীদের শরীর থেকে শীতের কাপড় খুলে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন দীর্ঘদিন ধরে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবশেষ এসএসসি ব্যাচের শেষ ক্লাসের দিনে র্যাগ ডে’র আয়োজনে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান না করেই প্রধান শিক্ষক ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন। ওই সময় অনুষ্ঠান করতে না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে তালা মেরে রাখেন। শুধু তাই নয়, স্কুলের ৪৬ জন শিক্ষক থাকলেও বিদায় অনুষ্ঠানে মাত্র ৬ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় স্কুলের বিদায়ী শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে এই বিক্ষোভ করে।
স্কুলের একটি সূত্রে জানায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা ও অর্ধশতাধিক কম্পিউটার ক্রয়সহ স্কুলের উপকরণ ক্রয়ের নামে লাখ টাকা লোপাট করেছেন। স্কুলের টিফিনসহ সকল উপকরণ প্রধান শিক্ষকের স্বামী সরবরাহ করারও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রধান শিক্ষকের রোষানলে পড়তে হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে এক সাথে স্কুলের ১৫ জন শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হয়। ফলে তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলেন শিক্ষার্থীরা।
তবে এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, স্কুলে কোন রকম অনিময় হয়নি।



