রংপুর ও তার আশপাশের এলাকায় গত ৪ দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবীর হয়ে পড়েছে। নিতান্ত প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অনেকে বাড়ির বাহিরে বের হচ্ছেন না। বেশি বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূলসহ চরাঞ্চলের মানুষ ও গবাদি পশু।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে সকাল ১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার দাপট দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
এদিকে, ভোর থেকে সকাল ১২টা পর্যন্ত রংপুর নগরের শাপলা চত্বর, নিউ আদর্শপাড়া, বাবুখাঁ, কামারপাড়া, লালবাগ, টার্মিনাল রোডসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার দাপটে সড়কে মানুষের উপস্থিতি কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মস্থলে উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষ ঠিকই দেখা গেছে। তাদের কষ্ট বেড়েছে সড়কে নিত্য চলাচলের বাহন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কম থাকায়। এজন্য তাদের গুণতে হয়েছে বাড়তি ভাড়াও।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার রংপুরে সকাল নয়টা পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। তবে সকাল ১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
রোববারের চেয়ে আজ তাপমাত্রা বাড়লেও কুয়াশার ঘনত্বও কমেনি। রোববার রংপুরে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। মূলত কুয়াশা কেটে গেলে শীত বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানান ওই আবহাওয়াবিদ।
আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত রংপুরের বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়াতে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৩ দশমিক ২, ডিমলায় ১৩ দশমিক ৬, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৪ দশমিক ৮ এবং গাইবান্ধায় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় পথঘাটে থাকা ছিন্নমূল অসহায় মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে। যদিও এই কুয়াশা আগবাড়িয়ে মনে করে দিচ্ছে শৈত্যপ্রবাহের কথা।
এদিকে নদী তীরবর্তী ও ছিন্নমূল মানুষরা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। যেন তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে শীতের প্রভাব পড়েছে।
এদিকে শীতজনিত নানা রোগ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে উত্তরাঞ্চলের বহু মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধা বয়সের মানুষ বেশি। পাশাপাশি আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণে চেষ্টা করা অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হচ্ছেন।
এদিকে শীতে অসুস্থ নারী, পুরুষ ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ে মেডিকেল টিমকে গুরুত্বসহ সেবা দিতে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াজেদ আলী জানান, শীতকালীন রোগে আক্রান্ত শিশু, নারী ও বয়স্কদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও মনিটরিং টিম রয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, শীতের শুরুতেই রংপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ৪৫ হাজার কম্বল উপজেলা পর্যায়ে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।




