কিছুই করার ছিল না এই মায়ের। তারপরও ভেবে অবাক হচ্ছিলেন, যখন তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল, তখন ওই শিশুগুলো কতটাই–না ভয় পাচ্ছিল, বিশেষ করে সাত বছরের ইয়াহা।
লামা বলেন, ‘এর মধ্যে সিন-বেতের (ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) এক সদস্য আমার কাছে এসে হাসতে হাসতে বললেন, ‘তোমার সন্তানেরা এখন বাড়িতে একা।’ তাঁর চোখে–মুখে ছিল আত্মতৃপ্তি।
লামার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে বিসান আল–জাজিরাকে বলেন, তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ছোট ভাইবোনদের ‘বাবা ও মা’ দুজনেরই ভূমিকাই পালন করতে হয়েছে। কারণ, ছোট্ট ছোট্ট তিন ভাইবোন স্কুলের শিক্ষার্থী। এবং তাদের দেখভালের দরকার ছিল।
বিসান বলেন, ‘৭ বছরের ইয়াহ সব সময়ই আমাকে আর বাবাকে মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করত—মা কী খাচ্ছে, মা কী ঠিক আছে, কখন বাড়ি আসবে। আর বাবা আল-ফাখৌরি যখন গ্রেপ্তার হলেন, তখন এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
ওই সময় দামোন কারাগারে নারীদের সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছিল, তাতে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কখনো কখনো সামান্য কারণেও তারা নারীদের ওপর খুব কাছ থেকে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করত। তারা বন্দীদের নির্জন কারাগারে রাখত। খুব অল্প খাবার দিত, এমনকি ক্যানটিন থেকে প্রয়োজনীয় কিছু কিনবে, সেই সুযোগও ছিল সীমিত। স্যানিটারি প্যাড কিনতেও বাধা দেওয়া হতো।
শেষমেশ লামাকে নভেম্বরের শেষ দিকে অফার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে ঠান্ডা সেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁকে অপেক্ষায় রাখা হয়। ওই সময়টুকুতে তাঁকে কোনো খাবার বা পানি কিছুই দেওয়া হয়নি। ভোরবেলা তিনি মুক্তি পান।




