দ্বিতীয় নীতিগত তাৎপর্য হলো, জলবায়ু সংকটের ক্ষেত্রে। এ বিষয়েও ডানপন্থীদের প্রতিরোধ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তাঁরা ইতিমধ্যে জল ঢেলে ইউরোপীয় সবুজ চুক্তিকে তরল করে দিয়েছেন। বিশেষত, বন ধ্বংস করা এবং কৃষির মতো বৃহত্তর টেকসই জলবায়ুর প্রসঙ্গগুলোতে। সামনের দিনগুলোয় এ হাওয়া আরও বাড়তে পারে।
ডানপন্থীরা সম্ভবত কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ পুরোপুরি আটকে দেবেন না। তবে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপকে তাঁরা যদি সমর্থন দেন, সেটা সম্ভবত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও শিল্পনীতির আঙ্গিকে উপস্থাপিত হবে। সেই অর্থে জলবায়ুর কথা বলে কোনো সমর্থন তাঁরা জানাবেন না। এরপরও কথা থাকে। জোরালো ডানপন্থীরা নতুন তহবিল লাগার মতো ইউরোপীয় কোনো শিল্পনীতিকে সমর্থন করবেন, এমনটা হওয়া কঠিন। একই কারণে কঠোরতর ডানপন্থী ইউরোপ নীতিগতভাবে প্রতিরক্ষার প্রতি জোর হয়তো দেবে, তবে সেই লক্ষ্যে ইউরোপীয় তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দে অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
তিন নম্বর তাৎপর্যটি অভিবাসন প্রসঙ্গে। এখানে আপাতবিরোধী সত্যটি হলো, জনতোষী ভাবধারার মদদে ইউরোপীয়রা অভিবাসন নিয়ে যত বেশি উত্তেজিত হবে, বাগাড়ম্বর করবে, ততই হয়তো এর নীতিগত সমাধান খোঁজার বিষয়টি ঝুলে যাবে। একটা বিষয়ে ইউরোপজুড়ে ডানপন্থী দলগুলো একমত। তারা অনিয়মিত অভিবাসী আর রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের চায় না। কিন্তু এসব মানুষের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য আছে। সুতরাং তারা এ সমস্যার ভার অভিবাসনপ্রত্যাশী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের উৎস দেশ কিংবা যাতায়াতের দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে চান। তবে ২০১৬ সালে তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি ছাড়া কোথাও এটা কার্যকর হয়নি। তিউনিসিয়ার সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারককে ব্যর্থতার সর্বশেষ নজির বলা যেতে পারে।



