শীতকাল মানেই বাঙালির পিঠা-পুলির উৎসব। শীতের পিঠা-পুলি বাঙালির আদি খাদ্য সংস্কৃতির অংশ। কালের গর্ভে ক্রমেই হারাতে বসেছে আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার পিঠাপুলি। প্রাত্যহিক নাগরিক যন্ত্রণায় আমাদের এই রসনা পরিতৃপ্তির আবেদন ম্লান হতে চলেছে।
এই আবহমান বাংলার চিরন্তন রসনাতৃপ্তির উত্তরাধিকারকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রি কলেজে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো পিঠা উৎসব।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) কলেজ ক্যাম্পাসে নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম খান।
বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রায় ১৬টি স্টলে ৫০ রকম পিঠারপুলি নিয়ে অংশগ্রহণ করে। পিঠাপুলির মধ্যে রয়েছে চিতই পিঠা, তেলের পিঠা, ম্যারাপিঠা, চেপা পিঠা, জামাই পিঠা, দুধপুলি পিঠা, নকশী পিঠা, ভাপা পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, মাছ পিঠা, পাটিসাপটা পিঠাসহ বাহারি নামের অসংখ্য পিঠা শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনায় কোলাহল মুখর হয়ে উঠে উৎসবস্থল।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহি বলেন এরকম আয়োজন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হওয়া উচিত। আমাদের কলেজে এই প্রথম আয়োজন হয়েছে এতে অনেক খুশি আমরা সবাই।
আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রি কলেজ সমাজকল্যাণ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাছিমুর রহমান বলেন, নারী উদ্যোক্তা জুলেখা খাতুন সোমার উদ্যোগে আজকের এই পিঠা উৎসব অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এবং কলেজের সকল ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বিপ্লব, সহকারী অধ্যাপক গোলাম মাহমুদ ফারুকী, মো. আশরাফুল আলম, মোস্তাসিমুর রহমান খান, সারোয়ার জাহান, উম্মে কুলসুম, উম্মে সালমাসহ প্রমুখ।


