অভিযানের পর বন্ধ পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ কাজ

অভিযানের পর বন্ধ পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ কাজ

দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ার বাজারে দফায় দফায় বাড়ছে সব ধরনের চালের দাম। গত এক সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের চাল কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। এ নিয়ে চলতি আমন মৌসুমে তিন দফায় চালের দাম বাড়ল।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কুষ্টিয়ার চাল বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। কুষ্টিয়ার চৌড়হাসে চালের দোকান থেকে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার।

অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডলসহ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, খাদ্য অধিদফতর ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল রাখা, মূল্য তালিকার সঙ্গে দরের সমন্বয় না থাকার অভিযোগে ৩টি দোকানকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও আরো ১টি দোকানিকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। চাল মজুদ বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির বড় কোন অনিয়ম পায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মোকাম থেকে বেশি দামে চাল ক্রয়ের কারণে তাদেরকে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে অভিযান করা হলেও অভিযান চালানো হয়নি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান-চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে।

এদিকে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকরা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে ধানের দাম। সে কারণে বাড়াতে হচ্ছে চালের দাম। তাই খাজানগর চালের মোকামেই দুই থেকে আড়াই টাকা বেড়েছে চালের দাম। তারা ধানের দাম বৃদ্ধির ওপরও নজরদারির দাবি তুলেছেন।

বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নানা অজুহাতে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে চিকন চালসহ অন্যান্য চালের দাম কেজিতে বেড়েছিল ৩ টাকা পর্যন্ত। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে কয়েক দিন ধরে খুচরা বাজারে আবারও সব ধরনের চাল কেজিতে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চলতি আমন মৌসুম শেষে এ নিয়ে তিন দফায় কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম বাড়ল।

অন্যদিকে খাজানগর এলাকার অটো রাইচ মিলগুলো পরিদর্শন করেন অধিদফতরের একটি মনিটরিং দল।

এসময় সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক প্রবোদ কুমার পাল, জগতি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মজুমদার ও সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল আদম।

জগতি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মজুমদার বলেন, আমরা অটোরাইস মিলগুলোর মজুদ পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু নিয়মে তাদের যে পরিমাণ মজুদ থাকার কথা তার চেয়ে বেশি পাইনি। আর তাদের ধান ক্রয়ের রশিদ ও চাল বিক্রির দর নিয়ে এসেছি। এগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক এহসানুল ইসলামের নের্তৃত্বে খাদ্য বিভাগের আরো একটি দল বাজারে দর মনিটরিং করেছে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, মিল পর্যায়ে অভিযানের আগে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। ২/৩ দিনের মধ্যে আমরা সেখানে অভিযানে নামব। তিনি বলেন, অভিযানগুলো সমন্বিত হবে। এখানে মজুদ, মূল্যবৃদ্ধিসহ লাইসেন্স, পাটের বস্তার ব্যবহার, মূল্য তালিকাসহ সব অনিয়ম ধরা হবে।

এসব ব্যাপারে কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, করপোরেট কোম্পানিগুলো এখন ধান কিনে মজুদে নেমেছে। তাই আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, সবাই আমদানি করতে পারলে কেউ আর বেশি দাম রাখতে পারবে না। দাম নেমে আসবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

Scroll to Top