শীত আসতেই বেড়ে যায় ঘন কুয়াশার দখল প্রতিযোগিতা। মাঠে-ঘাট, বিল-ঝিল পেরিয়ে এই কুশায়া জেঁকে বসে সড়ক ও মহাসড়কে। আর এতেই বাঁধার শিকার হয় গাড়ি চালকরা। বেড়ে যায় সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছরের পৌষ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কনকন শীতের পাশাপাশি বেড়েছে কুয়াশার ঘনত্ব। এরমধ্যেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন গাড়ির মালিক ও চালকরা। তবে সব ধরনের চালকদের কুয়াশায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
সম্প্রতি কয়েকদিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ঘন কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর রাত থেকে বেলা ১০টার মধ্যে চট্টগ্রামের পৃথক চারটি স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১৬ জন আহত হয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।
এদিন ভোর সোয়া ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইমপেরিয়াল এক্সপ্রেস নামে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে ৬ যাত্রী আহত হয়েছেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের অন্যতম মেঘা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেলেও আনোয়ারা প্রান্তে এপ্রোচ সড়কে সকাল সাড়ে ৬টায় দিকে একটি দ্রুত গতির মাইক্রোবাস প্রথমে সিকিউরিটি বক্সে ধাক্কা দেয় পরে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে লেগে উল্টে যায়। এসময় টানেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর এক সদস্যসহ ওই মাইক্রোর ৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের আবস্থা গুরুতর ছিল।
একইদিন সকাল ৭টার দিকে নগরীর বায়েজিদ থানা এলাকার ফৌজদারহাট লিংক রোড এলাকায় অতিরিক্ত কুয়াশার মধ্যে রাস্তায় পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ির মহাসড়কের দিকে হাটহাজারী উপজেলার মুনসি মসজিদের এলাকায় ভোর ৬টার দিকে এসএ পরিবহনের একটি কাভার্ডভ্যান অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ওই কাভার্ডভ্যান চালক শাহাজান বলেন, ’সকালে অনেক কুয়াশা ছিল। দুটি সিএনজি অটোরিকশা অভারটেক করতে চেষ্টা করছে। তাদের বাঁচাতে গিয়ে আমার গাড়িটি খাদে পড়ে যায়।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরির্শক নুরুল আলম আশিক বার্তা২৪.কম বলেন, ‘মেডিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর বেশি আসছে ইদানিং। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮-৯জন রোগী এসেছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরতর ছিল।’
সড়কে কুয়াশা বাড়ায় বাস মালিকদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চালকদের তারা সর্তকভাবে ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে প্রতিদিনই নির্দেশ দিচ্ছে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ থেকেও কুয়াশায় সর্তকভাবে গাড়ি চালাতে চালকদের বলা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শীত যত বাড়ছে কুয়াশার পরিমাণও বাড়ছে সড়কগুলোতে। আমরা যারা বাস মালিক আছি আমাদের কাছেও একটি চিন্তা থাকে এ সময়ে। কোন দিকে কী দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের বারবার করে বলা হচ্ছে কুয়াশার সময় যেন গাড়ি আস্তে চালায়। একদিকে কুয়াশার কারণে সড়কের দৃশ্যমানতা কমে যায়। অন্যদিকে সড়ক পানিতে ভিজে থাকে। তাই আমরা সব চলকদের বলে দিয়েছি তারা যেন গাড়ি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে।’
এবিষয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে দোহাজারী হাইওয়ে, উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান ও নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘আমরা সব ধরনের গাড়ি চালকদের কুয়াশার সময় গাড়ি আস্তে চালাতে অনুরোধ করছি। তাছাড়া গাড়ির মালিক ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এবিষয়ে জানিয়েছি। তাছাড়া আমরা যেসব গাড়ি নির্দিষ্ট গতির চেয়ে বেশি দ্রুত চালালে তারাদের জরিমানাসহ মামলা দিচ্ছি।’
চট্টগ্রাম হাইওয়ে সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের জিলানী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কুয়াশা উপর মানুষের কোনো হাত নেই, এটি প্রকৃতরি উপর নির্ভর। আমরা চালকদের সতর্ক করছি। ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা থেকে বাচতে চালকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ তারা যদি গাড়ি ধীর গতিতে চালায় তাহলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে কম। আমাদের সব থানাকে বলা হয়েছে। তারাও চালকদের সচেতন করছে।’
কুয়াশায় টানেলে সর্তক বাতি:
ঘন কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনার এড়াতে টানেলে উভয় পাশের সর্তকতামূলক সড়কবাতি জ্বালিয়ে রাখার পাশাপাশি সড়কের ব্যারিয়ারগুলোতে ফ্ল্যাশলাইট স্থাপন করবে কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী তানভীর রিফা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কুয়াশার যাতে চালকরা পথ না হারায় সেজন্য টানেলে উপর পাশের সড়ক বাতি গুলো সকাল ৮-৯টা বা যতক্ষণ ঘন কুয়াশা না কাটে ততক্ষণ জ্বালিয়ে রাখা হবে। পাশাপাশি সড়কের পাশের ব্যারিয়ারগুলোতে আমরা ফ্ল্যাশলাইট লাগাব। চালকরাও যেন গাড়ি সচেতন ভাবে চালায় সেটি তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে।’


