যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বেশি, সেখানে দারিদ্র্য বেশি

যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বেশি, সেখানে দারিদ্র্য বেশি

আসিফ সালেহ্‌: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শস্য ক্যালেন্ডার বদলে গেছে। যে ফসল যে সময়ে ঘরে ওঠার কথা, সেটা উঠছে না। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা—এমন নানা কিছু ঘটছে। লবণাক্ততার সমস্যা আছে।

কৃষিতে আমাদের কাজ অনেক। পানির কাজ করতে হবে। বিদ্যমান কৃষিকাজে পরিবর্তন আনতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের জন্য আমাদের লবণাক্ততা–সহিষ্ণু শস্য, ফল ও ফসল খুঁজতে হবে। সাতক্ষীরার আশাশুনিতে আমরা সূর্যমুখীর চাষ করেছি। সূর্যমুখী বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারেন।

তৃতীয় দিক হচ্ছে, ঝুঁকি কমানো। যেহেতু আবহাওয়ার ঠিকঠিকানা নেই, আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যেন প্রান্তিক মানুষের ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ে। যেমন আমরা যেসব ঘর তৈরি করছি, সেগুলো যেন জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে পারে। এ জন্য খুব বেশি খরচ লাগে না। ঘরের নকশাটা একটু পরিবর্তন করলেই চলে।

আমরা আরেকটা জিনিস করেছি, সেটা হলো শস্যবিমা। সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় ফসল হারানোর ঘটনা প্রায় নিয়মিত। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অল্প খরচে শস্যবিমাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এবার আলুচাষিদের কথা মাথায় রেখে শস্যবিমা করেছিলাম। অসময়ে বৃষ্টিতে তাঁদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকেরা এবার তাঁদের বিমার প্রিমিয়াম পেয়েছেন। হয়তো এই অর্থ দিয়ে তাঁদের ক্ষয়ক্ষতি পুরো পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু নতুন করে বীজ কেনা, ফসল উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

আরেকটি কাজ হচ্ছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঠিকঠাক পেতে আমরা এমআইটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। ওরা স্যাটেলাইট ইমেজ দিয়ে সাতক্ষীরার জন্য মডেলিং তৈরি করেছে। এর ভিত্তিতে আমরা অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর আগে দুর্যোগের খবর পাব।

Scroll to Top