নেলিকে এ–জাতীয় বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে একধরনের আনন্দ বোধ করি। একটা পরমা সুন্দরী মেয়েকে অগ্রাহ্য করতে পারার মধ্যে একটা সাময়িক বিজয়ের তৃপ্তি আছে।
তবে এ বছরের প্রথম দিন নিয়ে আমার একটি পরিকল্পনা ছিল। আমি নেলিকে নীলক্ষেতের দিকে একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাই। নেলিকে একটি টেবিলে বসিয়ে দিয়ে বের হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর কোলে করে একটি বাচ্চাকে নিয়ে ঢুকি।
নেলি বলল, এটা কে? কিডন্যাপিং শুরু করেছ নাকি?
আমি বললাম, এটা সেই বাচ্চাটা, যাকে তুমি একদিন রিকশা থেকে খাবার কিনে দিতে চেয়েছিলে। তারপর ওকে ফুলের মালা কিনে দিতে চেয়েছিলে। আমি ব্যাগ থেকে একটি ফুলের মালা বের করে নেলির হাতে দিলাম।
নেলি আমার দিকে অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। বাচ্চাটা মিটিমিটি হাসছিল। নেলি ওকে কোলে তুলে নিল। যত্ন করে মালাটা ওর গলায় পরিয়ে দিল।
আমার হুট করে মনে পড়ল, সেদিন রাস্তায় দেখা পাগলটির চেহারার সঙ্গে আমার স্কুলজীবনের একজন শিক্ষকের চেহারার অদ্ভুত মিল ছিল। তিনি একবার বলেছিলেন, জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ হচ্ছে অন্যের ইচ্ছেপূরণ করার আনন্দ।
আমি নেলির দিকে তাকালাম। নেলি পরম মমতায় বাচ্চাটিকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। আজ নেলির ইচ্ছেপূরণের দিন।


