
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের চাহিদায় রপ্তানি বাড়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাড়িয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতির দেশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। আগের প্রান্তিকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ।
সর্বশেষ প্রবৃদ্ধির হার চীনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের নিম্নসীমার কাছাকাছি। বিশ্লেষকদের মতে, এতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের সুযোগ রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে ব্যয় কম থাকলেও রপ্তানি বাড়ায় সেই চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে।
সোমবার চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, চাপের মধ্যেও অর্থনীতিতে স্থিতিশীল উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোরও উন্নতি হচ্ছে।
রপ্তানি বাড়তে থাকায় চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হলো বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি থেকে আয় এবং বিদেশ থেকে কেনাকাটার ব্যয়ের মধ্যকার পার্থক্য।
তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আবাসন খাতে বিনিয়োগ ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
বহু বছর ধরে অতিরিক্ত আবাসন নির্মাণ এবং বেসরকারি আবাসন নির্মাতাদের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার কারণে চীনের আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা চলছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।
সাম্প্রতিক প্রান্তরগুলোতে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় রপ্তানি বেড়েছে। এতে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমেছে এবং দেশের ভেতরে ভোগব্যয় কম থাকার প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে।
আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতি ও তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের কারণে দেশের ভেতরে ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে। এ পরিস্থিতিতে চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভর করছে।
অর্থনীতিকে চাঙা করতে সেপ্টেম্বরে কয়েকটি সহায়তা পদক্ষেপ ঘোষণা করে বেইজিং। এর মধ্যে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুদের হার কমানো এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
তবে বিপুল পরিমাণ সস্তা চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা অর্থনীতিগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ছে চীন।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




