ঢাকা,১২ অক্টোবর- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ও কাতারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম-১৭-এর ফাঁকে গতকাল এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি এবং কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া তিনি এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের হামলার নিন্দা জানান।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তার বিষয়েও তিনি সৌদি প্রতিনিধিকে জানান। পাশাপাশি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান। এ বিষয়ে সৌদি মন্ত্রী বলেন, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময় সৌদি সরকারের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’
বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সৌদি সরকারের চলমান সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সৌদি মন্ত্রী।
বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সৌদি সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা দেওয়া, স্থলভিত্তিক এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল নির্মাণ এবং সমুদ্রের ভেতরে ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবিরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা, বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা এবং নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও থেকে এলএনজি সরবরাহ এবং সরবরাহের উৎস ও রুট বহুমুখী করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ সময় উভয় পক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।
দিনের তৃতীয় বৈঠকে এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে এসিডব্লিউএ পাওয়ার তাদের আগ্রহের কথা জানায়।
এস এম/ ১২ অক্টোবর ২০২৬





