
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চরমে, ইরানের ড্রোন আঘাত হানল আরব আমিরাত আর বাহরাইনে অ্যামাজনের (Amazon) তিনটি ডেটা সেন্টারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমিরাতে অ্যামাজন তিন অংশের দুটি অচল হয়ে গেল। ব্যাংকের লেনদেন, পেমেন্ট অ্যাপ আর কোম্পানির সফটওয়্যার বন্ধ। অ্যামাজন বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের পরামর্শ দিল, সার্ভিস অন্য অঞ্চলে সরিয়ে নিতে।
বড় কোনো ক্লাউড কোম্পানির ডেটা সেন্টারে এটাই প্রথম বড় ধরণের সামরিক হামলা। আর তখন বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে একটা পুরোনো প্রশ্ন নতুন করে উঠল: এআইয়ের যান্ত্রিক সুবিধার আয়োজন বসবে কোথায়?
ঝুঁকি কমাতে এক জায়গায় সব নয়
ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরের দেশগুলো পিছিয়ে যায়নি। সেখানকার ২৩৩টি ডেটা সেন্টারের মধ্যে ক্ষতি হয়েছে তিনটির। হামলার এক সপ্তাহ পর ব্রুকফিল্ড জানাল, কাতারের সঙ্গে তাদের ২ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রকল্প চলবে। আবুধাবিতে ৫ গিগাওয়াটের স্টারগেট ক্যাম্পাসের কাজও চলছে।
হিসাব কিছুটা বদলে গেছে। পিউর ডেটা সেন্টার গ্রুপ (Pure Data Center Group) মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সাময়িক থামিয়েছে। আরেক গ্রুপ রেষ্ট অব ওয়ার্ল্ড (Rest of World) জানাচ্ছে, আমিরাতের কয়েকটি বড় প্রকল্প পর্যালোচনায় আছে। বিমা কোম্পানির সাধারণ পলিসিতে যুদ্ধের ক্ষতি ধরা হয় না, অনেক বিনিয়োগকারী সেটা এবারই প্রথম টের পেলেন। বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে ভারত, উত্তর ইউরোপ আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। উপসাগরকে বাদ দিতে নয়, পাশে আরেকটা ঠিকানা রাখতে।

ব্যবসার ভাষায় একে বলে ঝুঁকি ভাগ করা, ‘সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা’। বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন হলো, দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঝুড়িটা আমরা হতে পারি কি না।
বাংলাদেশ কি এই সুযোগ নিতে পারে?
ডেটা সেন্টারের সম্ভাব্য তালিকায় বাংলাদেশের নাম এখনো কেউ লেখেনি। তবে নামটা লেখানোর মতো কয়েকটা জিনিস আমাদের হাতে আছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে সরকারসহ উদ্যোক্তারা কাজ করলে, বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের চিত্র।
প্রথমটা দেশের ভেতরের বড় বাজার। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, সরকারি সেবা আর ভিডিওর ডেটা দিনে দিনে বাড়ছে। এর বড় অংশ এখনো সিঙ্গাপুর নয়তো ভারতের সার্ভার ঘুরে আসে, খরচ যায় বৈদেশিক মুদ্রায়। দেশে বড় ডেটা সেন্টার হলে সেই খরচের একটা অংশ দেশেই থাকবে।
দ্বিতীয়টা ভিত বা ফাউন্ডেশন। কালিয়াকৈরে ‘টিয়ার ৪ মান’ এর জাতীয় ডেটা সেন্টার চালু আছে। সম্প্রতি সেখানে প্রায় ৪০ পেটাফ্লপ ক্ষমতার জিপিইউ যুক্ত হয়েছে, বাংলা ভাষার এআই মডেল তৈরির কাজে। অর্থাৎ শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। একটা কেন্দ্র চালানোর অভিজ্ঞতা আর দক্ষ লোক দেশে কমবেশি আগেই তৈরি হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ছোট ও মাঝারি ডেটা সেন্টার চালানোর অভিজ্ঞতা বহুবছর ধরেই আছে।

তৃতীয়টা সরকারের আগ্রহ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, আগামী চার-পাঁচ বছরে ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো বাড়ানো খুবই জরুরি। আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নীতি যখন আগ্রহ দেখায়, বিনিয়োগকারীরাও তখন নজর দিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের AIDCQ / EDIC’র প্রস্তাব: নকশা দেখাচ্ছে আশা
যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি এআইডিসি-কিউ (AIDCQ / EDIC) একটি প্রস্তাব দেশে ডেটা সেন্টার বিকাশের সবচেয়ে স্পষ্ট চেহারা। জুলাইয়ের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রস্তাবটি জমা দেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এস এম আনিসুর রহমান। তিনি যুক্তরাজ্যের Ravensbourne University-র সহযোগী অধ্যাপকও।
টাকার অঙ্ক ২০০ কোটি ডলার, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ। টাকা আসবে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের একটি আন্তর্জাতিক জোট থেকে। জায়গা হিসেবে প্রস্তাবে আছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা অন্য কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল।
কাজ হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপে ২৪ মাসে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, যেখানে সরকার, দেশি কোম্পানি আর বিদেশি গ্রাহকেরা উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং সেবা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ২৪ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে ক্ষমতা বাড়বে ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াটে। লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এআই কম্পিউটিং কেন্দ্র বানানো। তৃতীয় ধাপ দীর্ঘমেয়াদি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের উপযোগী অবকাঠামো আর দেশের এআই গবেষণার ব্যবস্থা।
বিদ্যুতের জন্য প্রস্তাবে আছে ১০০ মেগাওয়াটের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ। বাড়তি বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে। কোম্পানির হিসাবে সরাসরি চাকরি হবে ১০ হাজারের বেশি, পরোক্ষে ৫০ হাজারের বেশি।
সরকারের কাছে এআইডিসি-কিউ কয়েকটা জিনিস চেয়েছে: প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার বিনিয়োগ’ ঘোষণা, দ্রুত অনুমোদন ও লাইসেন্স, জমি, বড় মাত্রার বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ আর কয়েক টেরাবিট ক্ষমতার সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ।
প্রস্তাবটা এখনো প্রস্তাবই। চাকরির সংখ্যাও কোম্পানির নিজের হিসাব। তবে এতে একটা দরকারি জিনিস পাওয়া গেল: একটা বড় এআই ডেটা সেন্টার বানাতে কী কী লাগে, তার তালিকা। সরকার এই তালিকা ধরে তৈরি থাকলে পরের বিনিয়োগকারীর জন্য দরজা খোলাই থাকবে, প্রস্তাবটা এআইডিসি-কিউ’র হোক বা অন্য কারও।
খরচের অঙ্ক
বৈশ্বিক হিসাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে ডেটা সেন্টারের ভবন আর মূল অবকাঠামো বানাতে গড়ে মেগাওয়াটপ্রতি ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার লাগছে। এআইয়ের যন্ত্রপাতি বসাতে লাগে আরও ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত। সেই হিসাবে ৫০ মেগাওয়াটের একটা এআই কেন্দ্রে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৮০ কোটি ডলার। ADIC-এর ২০০ কোটি ডলারের অঙ্ক এর কাছাকাছি।

এত বড় টাকা একা সরকার দিতে পারবে না, দেওয়ার দরকারও নেই। সরকারের কাজ হলো জমি, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, ক্যাবল আর নিয়মকানুন তৈরি রাখা। টাকা আনবে বেসরকারি খাত।
ডেটা সেন্টারে পানি: মরুভূমির দেশগুলো কীভাবে পেরেছে
ডেটা সেন্টারের কথা উঠলে পানির প্রশ্ন আসবেই। পুরোনো পদ্ধতিতে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এস এন্ড পি গ্লোবাল আপটাইম ইনস্টিটিউট অনুমান উদ্ধৃত করে বলছে, ১ মেগাওয়াটের কেন্দ্রে বছরে ২ কোটি ৫৫ লাখ লিটার পর্যন্ত পানি লাগতে পারে।
সবচেয়ে ভালো উত্তর দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, যেখানে পানি সবচেয়ে কম। কুয়েতের খাওয়ার পানির প্রায় ৯০ শতাংশ, সৌদি আরবের প্রায় ৭০ শতাংশ আর আরব আমিরাতের ৪২ শতাংশ আসে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে। নদী নেই, গরমে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে ওঠে। তবু সৌদির হুমেইন (Humain) রিয়াদ আর দাম্মামে ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র বানাচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে ৬ গিগাওয়াটে যেতে চায়।
তারা পানি বাঁচানোর পথ বের করেছে। আবুধাবির ডেটা সেন্টার খাজনা (Khazna) পয়ঃবর্জ্যের শোধন করা পানি দিয়ে ঠান্ডা করার পরীক্ষা চালাচ্ছে। খাজনার পাশাপাশি ডেটাভল্ট (DataVolt) আর আলফানর (Alfanar) তরল ঠান্ডা ব্যবস্থা বসিয়ে পানির ব্যবহার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাচ্ছে। মরুদেশের আরেক ডেটা সেন্টার নিয়ম (Neom) তাদের এআই ক্যাম্পাস ঠান্ডা করছে লোহিত সাগরের পানিতে। ওই অঞ্চলে পানির হিসাব এখনো বড়, ২০৩০ সালে বছরে ৪২ হাজার ৬০০ কোটি লিটার লাগতে পারে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড (Rest of World) এক প্রতিবেদনে বলেছে। কিন্তু সেই চাপে তারা থামেনি, প্রযুক্তি বদলেছে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও একই দিকে যাচ্ছে, পানি খরচের বিশাল আয়োজনের বিকল্প দ্রুত বের হয়ে আসছে। টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে নতুন সব ডেটা সেন্টারের নকশায় চিপের গায়ে বন্ধ পাইপের তরল দিয়ে ঠান্ডা ব্যবস্থা রাখছে। পানি একবার ভরা হয়, তারপর ঘুরতে থাকে, বাষ্প হয় না।

কোম্পানির হিসাবে প্রতিটি কেন্দ্রে বছরে সাড়ে ১২ কোটি লিটারের বেশি পানি বাঁচবে। তাদের এই প্রযুক্তি ডেটা সেন্টারে পানির অতি ব্যবহারের জামানা শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতে ডেটা সেন্টার: দ্রুত বড় হওয়ার শিক্ষা
পাশের দেশ ভারত পাঁচ বছরে ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা প্রায় চার গুণ করেছে, ২০২০ সালের ০.৪ গিগাওয়াট থেকে ২০২৫ সালে ১.৫ গিগাওয়াট। জানুয়ারিতে দেশটিতে ২৭১টি ডেটা সেন্টার ছিল, প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুম্বাইয়ে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষমতা ৪.৫ থেকে ৬.৫ গিগাওয়াটে যাওয়ার পূর্বাভাস আছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে ভারত সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ভারতের ডেটা সেন্টার থেকে সেবা দেওয়া বিদেশি ক্লাউড কোম্পানি ২০৪৭ সাল পর্যন্ত কর ছাড় পাবে। বিনিয়োগ টানতে এর চেয়ে স্পষ্ট বার্তা কম আছে।

ভারত পানির দিকেও নজর দিচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে একটি প্রকল্পে ঠান্ডা করার জন্য সমুদ্রের পানি ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে। অ্যামজন জুনে দাবি করেছে, ভারতে তারা যত পানি ব্যবহার করে, তার ১২০ শতাংশ ফিরিয়ে দিচ্ছে।
তবে একটা ভুলও চোখে পড়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে স্থানীয় মানুষ বিক্ষোভ করেছেন, কারণ কার পানি যাবে আর কার জীবিকা বদলাবে, সে কথা আগে কেউ তাঁদের বলেনি। দেশটিতে ডেটা সেন্টারের জন্য বাধ্যতামূলক জাতীয় নীতিও নেই। বাংলাদেশ শুরুতেই নিয়ম আর আলোচনা ঠিক করে নিলে এই ভুল এড়াতে পারবে।
পদ্মা-যমুনা নদী, বিদ্যুৎ আর ঠিক জায়গা বাছাই
মধ্যপ্রাচ্যের ডেটা সেন্টারগুলোর পরিবেশ ও সুবিধা বিবেচনা করলে বাংলাদেশ বেশ ভাল অবস্থানে আছে। আমাদের পানির অভাব মরুভূমির মতো নয়, সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার খরচও লাগবে না।
আমাদের নজর দিতে হবে অন্য দুটো জিনিসে: নদীর গতিপথ পরিবর্তনশীল, গ্যাস-বিদ্যুতও কমে আসছে। তবে এই দুটোরই সমাধান বেশি কঠিন না।

ভৌগলিক প্রতিষ্ঠান সিজিআইএসের (CEGIS) হিসাবে ১৯৭৩ সাল থেকে যমুনা, পদ্মা আর গঙ্গা মিলিয়ে যত জমি ভেঙেছে, তার তিন-পঞ্চমাংশ একা যমুনার। ২০২৬ সালের জন্যও সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এর সমাধান হলো জায়গা বাছার সময় সিজিআইএসের পূর্বাভাস আর বন্যার ইতিহাস দেখে নেওয়া, নদীর সক্রিয় পাড় থেকে দূরে থাকা। সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের মতো বাঁধ দিয়ে ঘেরা, পরিকল্পিত এলাকা এ কারণেই হিসাবে আসে। কর্ণফুলি আর মেঘনা নদী পাড়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোও যথেষ্ট সম্ভাবনাময়।

বিদ্যুৎ বর্তমান সময়ের বড় প্রশ্ন। আগস্টের একটা দিনে দেশে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এখন সরবরাহ ৭ মেগাওয়াট, সম্প্রসারণে লাগবে ১২০ মেগাওয়াট। ADIC নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সৌরবিদ্যুতের কথা বলছে ঠিক এই কারণেই। বিদ্যুত সমস্যা সমাধানে নিয়ম করা যেতে পারে: বড় ডেটা সেন্টার নিজের বিদ্যুতের একটা অংশ নিজে জোগাবে, সৌর দিয়ে শুরু করবে, আর বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দেবে। সরকারের নতুন সৌরবিদ্যুত পরিকল্পনা বিষয়টিকে আরও সমর্থন করে।
সামনের পথ
উপসাগরে যুদ্ধ বিনিয়োগকারীদের একটা শিক্ষা দিয়েছে: এক জায়গায় সব কিছু রাখা ঝুঁকির। ভারত দেখিয়েছে, করছাড়সহ সরকারের আরও স্পষ্ট নীতি থাকলে পাঁচ বছরে চার গুণ বড় হওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্য দেখিয়েছে, পানি না থাকলেও প্রযুক্তি দিয়ে ডেটা সেন্টার চালানো যায়।
বাংলাদেশের জন্য কাজের তালিকাটা তাই মোটামুটি স্পষ্ট। একটা ডেটা সেন্টার নীতি, যেখানে করছাড়, জমি, বিদ্যুৎ আর সাবমেরিন ক্যাবলের নিশ্চয়তা থাকবে। পানি বাঁচানোর ঠান্ডা ব্যবস্থা আর পানি-বিদ্যুতের হিসাব প্রকাশ করা থাকবে শর্ত হিসেবে, বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা। আর থাকবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে ‘ওয়ান স্টপ’ সেবার মাধ্যমে সবকিছু দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা।
এআইয়ের যুগে যে দেশে ডেটা সেন্টারসহ কারিগরী সুবিধা বসবে, ডেটা, চাকরি আর দক্ষতাও সেখানে যাবে। বাজার, ভিত্তি আর সরকারের আগ্রহ, তিনটাই আমাদের হাতে আছে। পাত্র তৈরি থাকলে ডিম আসবে, আর দক্ষিণ এশিয়ার এআইয়ের মানচিত্রে বাংলাদেশের নামও উঠবে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




