স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে নতুন দায়িত্ব, অতীতের নানা বাধা পেরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন

🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
পুলিশের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম (রেজা)কে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ শুক্রবার খুলনায় নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ব পালনে কঠোর অবস্থানের কারণে রেজাউল করিমের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তবে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।
পাঁচবার পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ
পুলিশ সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রেজাউল করিমকে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করে কয়েক দফায় ডিআইজি পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। তবে তার পেশাগত দক্ষতা ও পুলিশের অভ্যন্তরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে পরবর্তীতে তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান।
পুলিশের ১৭তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হবিগঞ্জে এসপি থাকাকালে চাপের অভিযোগ
রেজাউল করিম হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালে ২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি আলোচিত ঘটনার মুখে পড়েন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
ওই সময় হবিগঞ্জের প্রভাবশালী একটি পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এসপি রেজাউল করিম পিছপা হননি বলে পুলিশ সূত্র জানায়।
এরপর তাকে হবিগঞ্জ থেকে সরিয়ে দিতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। ওই প্রতিবেদনে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে তাকে হবিগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি আটকে থাকার অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই সময়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রভাব পরবর্তী সময়েও তার ক্যারিয়ারে পড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার ডিআইজি পদে পদোন্নতি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়।
তবে পুলিশে তার পেশাগত ভাবমূর্তি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
‘সোর্সমানির টাকাও নিজের জন্য খরচ করেননি’
পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে কঠোরভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও পেশাগত অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রেজাউল করিম এতটাই সতর্ক ছিলেন যে গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত সোর্সমানির অর্থও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতেন না।
তবে এ ধরনের দাবির বিষয়ে কোনো লিখিত নথি বা স্বাধীন যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের পর পুলিশ পুনর্গঠনে ভূমিকা
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশে পরিবর্তন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় রেজাউল করিম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পুলিশি কার্যক্রম সমন্বয় এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের কার্যক্রমও তিনি নিয়মিত মনিটরিং করেছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
খুলনা রেঞ্জে নতুন দায়িত্ব
খুলনা রেঞ্জের অধীনে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ একাধিক জেলা রয়েছে। নতুন দায়িত্বে এসব জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারক করতে হবে তাকে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন দায়িত্বে অপরাধ দমন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে। রেজাউল করিমের পদায়নকে ঘিরে খুলনা রেঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
