
শুক্র গ্রহের কোনো চাঁদ নেই কেন, সেই রহস্যের সম্ভাব্য উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একদল বিজ্ঞানী। নতুন গবেষণা বলছে, একসময় শুক্রের হয়তো একটি প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ ছিল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে তাদের গবেষণা।
শুক্রের এই রহস্যের নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড শাখার বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর মতোই শুক্র একটি পাথুরে গ্রহ। আকার ও ভরের দিক থেকেও পৃথিবীর সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে। তবে সৌরজগতের মাত্র দুটি গ্রহের কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই। এর মধ্যে শুক্রের চাঁদহীন থাকার কারণ দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয়।
গবেষণাটির প্রধান লেখক জ্যোতির্পদার্থবিদ স্টিফেন কেইনের নেতৃত্বে গবেষকেরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, শুক্রের প্রাথমিক ইতিহাসে বড় কোনো সংঘর্ষের পর সেখানে চাঁদ তৈরি হলে তার পরিণতি কী হতে পারত।
সিমুলেশনে দেখা যায়, তরুণ শুক্র দ্রুতগতিতে ঘুরলে সেই চাঁদ কোটি কোটি বছর টিকে থাকতে পারত। গ্রহটির একেকটি দিন ১২ ঘণ্টার কম হলে এবং চাঁদের ভর পৃথিবীর চাঁদের কাছাকাছি হলে এমনটা সম্ভব ছিল।
কিন্তু শুক্র যদি ধীরগতিতে ঘুরত, তাহলে জোয়ারভাটার শক্তি চাঁদটিকে ধীরে ধীরে গ্রহটির দিকে টেনে আনত। একপর্যায়ে শুক্রের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে চাঁদটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারত। পরে এর ধ্বংসাবশেষ শুক্রের ওপর আছড়ে পড়ত।
গবেষকদের সিমুলেশন অনুযায়ী, একটি কাল্পনিক চাঁদ প্রায় ৩ কোটি থেকে ১৭০ কোটি বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারত। এর স্থায়িত্ব নির্ভর করত চাঁদের ভর এবং শুক্রের প্রাথমিক ঘূর্ণনগতির মতো বিষয়ের ওপর।
গবেষণায় শুক্রের প্রাথমিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষগুলোর প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এই গবেষণায় শুক্রের প্রাথমিক অবস্থার বড় সংঘর্ষগুলোও পরীক্ষা করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শুক্রের নিজস্ব উপগ্রহের সংঘর্ষের ফলেই বর্তমানে গ্রহটি ধীর ও বিপরীতমুখী ঘূর্ণন তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সংঘর্ষে তৈরি ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ শুক্রে ফিরে আসতে পারে, আবার কিছু অংশ এমন অবস্থানে চলে যেতে পারে, যেখানে চাঁদের পক্ষে স্থিতিশীল কক্ষপথে থাকা সম্ভব নয়।
অর্থাৎ, শুক্রের কোনো সম্ভাব্য চাঁদ হারিয়ে যাওয়ার জন্য পরবর্তী সময়ে আরেকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রয়োজন নাও হয়ে থাকতে পারে। শুক্রের স্বাভাবিক জোয়ারভাটাজনিত পরিবর্তনই চাঁদটিকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকা শুক্রের মতো ধীরগতিতে ঘূর্ণনশীল গ্রহগুলোর পক্ষে বড় চাঁদকে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল কক্ষপথে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
তবে গবেষণাটি শুক্রের অতীতে সত্যিই কোনো চাঁদ ছিল এমন প্রমাণ দেয়নি। বরং গবেষকেরা দেখিয়েছেন, শুক্রের ঘূর্ণন ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কীভাবে একটি সম্ভাব্য চাঁদকে ধ্বংস করতে পারে
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
