তীব্র গরমে একটু শান্তিতে ঘুমানোর জন্য রাতে দীর্ঘ সময় এসি চালানো এখন প্রায় প্রতিটি ঘরের চিত্র। তবে অনেকেরই ভয় থাকে, সারারাত এসি চললে হয়তো মাসের শেষে এক বিশাল বিদ্যুৎ বিলের মুখোমুখি হতে হবে কিংবা এসি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। আসল বিষয় হলো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চললেই যে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসবে তা নয়; বরং বেহিসাবি তাপমাত্রা, অপরিষ্কার ফিল্টার এবং অসচেতন ব্যবহারের কারণে আসল অপচয়টি ঘটে। সঠিক নিয়ম মেনে চললে সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল অনায়াসে বাজেটের মধ্যে রাখা সম্ভব।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রেখে রাতভর এসি ব্যবহারের উপায়
তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন: দ্রুত ঘর ঠাণ্ডা করার তাগিদে ১৬ ডিগ্রিতে এসি চালানো একদমই উচিত নয়। এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ বহু গুণ বেড়ে যায়। ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মানবদেহের জন্য আরামদায়ক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।
নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা: ফিল্টারে ধুলোবালি জমে থাকলে বাতাস চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে ঘর কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ঠাণ্ডা করতে কম্প্রেসারকে দ্বিগুণ কাজ করতে হয়, যা বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়। প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত একবার ফিল্টার ধুয়ে পরিষ্কার করা উচিত।
নির্দিষ্ট বিরতিতে পেশাদার সার্ভিসিং: এসি চালু থাকা মানেই তা পুরোপুরি সুস্থ, এমনটি ভাবা ভুল। কয়েল ও ভেতরের জটিল যন্ত্রাংশের সঠিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে বছরে অন্তত একবার দক্ষ মেকানিক দিয়ে পুরো এসি সার্ভিসিং করানো প্রয়োজন।
টাইমার ও স্লিপ মোডের সদ্ব্যবহার: রাতে শোয়ার সময় এসির ‘Sleep Mode’ বা ‘Timer’ ফিচারটি চালু রাখুন। স্লিপ মোড চালু থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ঘরের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি করে বাড়ে, যা গভীর রাতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।
পরিশেষে বলা যায়, এসি সারারাত চালানো কোনো বড় সমস্যা নয়, সমস্যা তৈরি হয় এর সঠিক যত্নের অভাবে। ঘরের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা এবং স্মার্ট ফিচারগুলো বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করার মাধ্যমে এসিকে দীর্ঘদিন টেকসই রাখা ও বিদ্যুৎ খরচে বড় ছাড় পাওয়া সম্ভব।

