
ঢাকা, ২৮ আগস্ট – পদ্মা ও যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে নির্মাণ করা হবে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু। প্রস্তাবিত ওয়াই আকৃতির নকশায় সেতু দুটি নির্মিত হলে নদী পারাপারের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প, পর্যটন ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোকে বড় ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হবে। সূত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া রুটে এই সেতুর কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতুর জন্য জাইকা এবং চায়না হারবার কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই সেতুর সম্ভাব্য রুট হিসেবে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ অথবা গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত সমীক্ষার পরই সেতুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, নতুন এই অবকাঠামোকে কেবল সেতু হিসেবে না দেখে কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত করিডর হিসেবে পরিকল্পনা করতে হবে। এতে ঢাকার ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
ওয়াই মডেলের এই যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর হলে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর বিকল্প ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। এতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেতুর দুই পাশে হিমাগার, শস্য সংরক্ষণাগার ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। এছাড়া যমুনা ও পদ্মার চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা মূলত যমুনা সেতুর ওপর নির্ভরশীল হলেও দ্বিতীয় যমুনা সেতু সেই ঝুঁকি ও চাপ অনেকটা কমিয়ে আনবে। তবে পুরো পরিকল্পনাটি বর্তমানে প্রাথমিক সমীক্ষা ও প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে।
এস এম/ ২৮ আগস্ট ২০২৬


