নিজের মতো এআই ভিডিও মেকিংয়ে গুগলের ম্যাজিক

নিজের মতো এআই ভিডিও মেকিংয়ে গুগলের ম্যাজিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দাপটে ভিডিও তৈরির দুনিয়ায় এক অভাবনীয় বিপ্লব নিয়ে এলো সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। এআই ভিডিও নির্মাণকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ করতে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ‘গুগল ভিডস’ (Google Vids)-এ একগুচ্ছ চোখ ধাঁধানো ফিচার যুক্ত করেছে কোম্পানিটি। এখন থেকে মাত্র একটি সেলফি আর ভয়েস রেকর্ডেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের হুবহু ডিজিটাল রূপ বা ‘এভাটার’ এবং নিজেদের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রফেশনাল মানের ভিডিও বানিয়ে নিতে পারবেন।

গুগলের এই নতুন চমক, এর কার্যকারিতা এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এর সুবিধার খুঁটিনাটি নিচে তুলে ধরা হলো…

মাত্র একটি সেলফি আর ভয়েস রেকর্ডেই কেল্লাফতে!

নিজের মতো দেখতে ডিজিটাল এভাটার তৈরি করতে এখন আর দামি ক্যামেরা বা স্টুডিওর প্রয়োজন নেই। গুগল ভিডসের নতুন আপডেটে ব্যবহারকারীকে কেবল নিজের একটি স্পষ্ট সেলফি এবং সামান্য সময়ের একটি ভয়েস রেকর্ডিং আপলোড করতে হবে। ব্যস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিমেষেই আপনার সেই চেহারা ও কণ্ঠের ক্লোন তৈরি করে দেবে, যা দিয়ে পরবর্তীতে যেকোনো লিখিত স্ক্রিপ্ট থেকে ভিডিও বানিয়ে নেওয়া যাবে।

যুক্ত হলো শক্তিশালী ‘জেমিনি ওমনি’ মডেল

গুগল ভিডসের সর্বশেষ সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে গুগলের সবচেয়ে আধুনিক ‘জেমিনি ওমনি’ (Gemini Omni) মডেল। এর ফলে…

ব্যবহারকারীর দেওয়া যেকোনো লিখিত নির্দেশনা (Prompt) এবং রেফারেন্স ছবি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয় ভিডিও তৈরি করা যাবে।

ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড বা পেছনের দৃশ্য পরিবর্তন, লাইটিং অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট যোগ করা যাবে মুহূর্তেই।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভিডিওর কোনো অংশ পছন্দ না হলে ধাপে ধাপে সম্পাদনা (Editing) করা যাবে। অর্থাৎ, সামান্য ভুলের জন্য পুরো ভিডিও নতুন করে তৈরি করার কোনো প্রয়োজন হবে না।

সাধারণ প্রেজেন্টেশন টুল থেকে ‘পূর্ণাঙ্গ ভিডিও প্ল্যাটফর্ম’

শুরুতে গুগল ভিডস মূলত অফিসের সাধারণ উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশন তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে চালু হয়েছিল। তবে নতুন এই ফিচারগুলোর সংযোজন এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ এআই ভিডিও তৈরির প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করেছে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, অনলাইন শিক্ষা এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য খুব কম সময়ে মানসম্মত ভিডিও তৈরি করা পানির মতো সহজ হয়ে যাবে।

এই নতুন সুবিধার মাধ্যমে গুগল এখন সরাসরি হেইজেন (HeyGen), সিন্থেসিয়া (Synthesia), ক্যাপশনস (Captions) এবং ডি-আইডি (D-ID)-এর মতো বিশ্বসেরা এআই ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে টেক্কা দিতে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা ও ডিপফেক রোধে গুগলের কড়া নজরদারি

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার বা ডিপফেক (Deepfake) ঠেকাতে গুগল নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে।

প্রতিটি ব্যক্তিগত এভাটার বা ক্লোন করা কণ্ঠ সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে কঠোরভাবে লিংকড থাকবে, যাতে অন্য কেউ তা ব্যবহার করতে না পারে।

এছাড়া, এআই দিয়ে তৈরি প্রতিটি ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে গুগলের নিজস্ব প্রযুক্তি ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত থাকবে। এই ওয়াটারমার্কটি খালি চোখে দেখা না গেলেও যেকোনো এআই ডিটেক্টর দিয়ে সহজেই শনাক্ত করা যাবে যে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।

Scroll to Top