
ওয়াশিংটন, ১৪ জুলাই – ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ইউরোপীয় সমাজে ইসলামের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলাম একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হলেও ফুটবলের মাঠের পারফরম্যান্স সেই পুরনো ধ্যান-ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করার পর সিজদা দিয়ে নিজের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছেন। এর আগে বার্সেলোনায় খেলার সময় তাকে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হতে হলেও তিনি বরাবরই নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে গর্বিত ছিলেন।
শুধু ইয়ামাল নন, জার্মানির আন্তোনিও রুডিগার কিংবা সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির মতো খেলোয়াড়রাও নিজেদের বিশ্বাস প্রকাশের কারণে নানা মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এসব ঘটনা ইউরোপের সেই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে এসেছে যা ইসলামকে কেবল একটি বিদেশি সংস্কৃতি হিসেবে দেখাতে চায়।
তবে বাস্তবতা হলো ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম খেলোয়াড়দের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ কিংবা ফ্রান্সের পল পগবার উত্তরসূরি হিসেবে কেপ ভার্দের মতো দলের খেলোয়াড়রাও ইসলামে দীক্ষিত হয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।
জ্যামিরো মন্টেরো ও লোগান কস্তার মতো ফুটবলাররা জানিয়েছেন যে সহকর্মীদের সংস্পর্শে এসে ইসলামের শান্তির বাণীর মাধ্যমে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এই ফুটবলাররা তাদের জাতীয় দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং সেখানে ধর্মের চেয়ে পেশাদারিত্ব ও জাতীয় ঐক্যই মুখ্য হয়ে উঠছে।
ফুটবল মাঠ আজ কেবল গোলের আনন্দ নয় বরং আধুনিক ইউরোপীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ইসলামের জয়গান গাইছে। বিদ্বেষের গণ্ডি পেরিয়ে এই খেলোয়াড়রা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ইউরোপের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
এস এম/ ১৪ জুলাই ২০২৬







