ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা, গোপন তথ্য নেওয়ার অভিযোগ | চ্যানেল আই অনলাইন

ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা, গোপন তথ্য নেওয়ার অভিযোগ | চ্যানেল আই অনলাইন

অ্যাপলের সাবেক আইফোন প্রকৌশলী চ্যাং লিউ ওপেনএআইয়ের নবগঠিত হার্ডওয়্যার বিভাগে যোগ দেওয়ার পরও অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে গোপন তথ্য ডাউনলোড করেছেন বলে অভিযোগ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। এ ঘটনায় লিউসহ কয়েকজন সাবেক কর্মী এবং ওপেনএআইকে ঘিরে একটি আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার দায়ের করা ৪০ পৃষ্ঠার এক মামলায় অ্যাপল দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সময় লিউ শুধু তার অভিজ্ঞতাই সঙ্গে নিয়ে যাননি; বরং তিনি একটি কোম্পানি-প্রদত্ত ম্যাকবুক ফেরত দেননি, অ্যাপলের এক কর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং একটি সফটওয়্যার ত্রুটির সুযোগ নিয়ে অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ ফাইল সার্ভারে প্রবেশাধিকার ধরে রেখেছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, লিউ তার সাবেক সহকর্মী অ্যালিসা পেংকে এক বার্তায় লিখেছিলেন, ‘লোল (হাসি), আমি আবিষ্কার করেছি যে এখনো নেটওয়ার্ক স্টোরেজে প্রবেশ করতে পারি, মজার ব্যাপার।’ এরপর তিনি ওই প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে বিভিন্ন উপস্থাপনা, হার্ডওয়্যার নকশা, উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য এবং পরীক্ষণ পদ্ধতির নথি ডাউনলোড করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তখন তিনি ইতোমধ্যে ওপেনএআইয়ে কর্মরত ছিলেন।

অ্যাপলের অভিযোগ, লিউ ত্রুটিটি আবিষ্কার করার পর পেং তাকে সহায়তা করেন। পরে তিনি নিজের ল্যাপটপ ব্যবহার করেও অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করেন। কয়েক মাস পর, চলতি বছরের এপ্রিলে পেংও ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার বিভাগে যোগ দেন।

মামলায় বলা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার ইউনিটে ইতোমধ্যে অ্যাপলের ৪০০-র বেশি সাবেক কর্মী যোগ দিয়েছেন। উন্নত বেতন, শেয়ার সুবিধা এবং আইফোন-পরবর্তী প্রজন্মের ডিভাইস তৈরির সুযোগ তাদের আকৃষ্ট করেছে।

অ্যাপলের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের গোপন তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক দশকের গবেষণা ও উন্নয়নকে অনুকরণ করার চেষ্টা করেছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওপেনএআই চাকরিপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের আগে অ্যাপলের গোপন নথি অধ্যয়ন করতে উৎসাহিত করত এবং কখনো কখনো হার্ডওয়্যার উপাদান ও প্রোটোটাইপ নিয়ে সাক্ষাৎকারে আসতেও বলত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওপেনএআই। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক গোপনীয়তায় আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। আমরা এমন প্রযুক্তি উন্নয়নে মনোযোগী, যা বিশ্বের মানুষের ক্ষমতায়ন করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন অংশীদার থেকে ধীরে ধীরে প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হচ্ছে অ্যাপল ও ওপেনএআই। উভয় প্রতিষ্ঠানই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন ডিভাইস বাজারে আনার দৌড়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন বদলে দিতে পারে।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অ্যাপলের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ট্যাং ট্যান। আইফোন, অ্যাপল ওয়াচসহ বিভিন্ন পণ্যের নকশা তদারকির দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠান ছাড়েন। পরে তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান হার্ডওয়্যার কর্মকর্তা হন।

মামলা অনুযায়ী, ট্যান সাবেক অ্যাপল ডিজাইন প্রধান জনি আইভ এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে নতুন হার্ডওয়্যার উদ্যোগে কাজ শুরু করেন। পরে তারা ‘আইও প্রোডাক্টস’ নামে একটি স্টার্টআপ গড়ে তোলেন, যা গত বছর ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করে ওপেনএআই।

অ্যাপলের অভিযোগ, ট্যান সম্ভাব্য কর্মীদের সাক্ষাৎকারকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। নতুন পণ্য ও প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করতেন এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কর্মীদের ব্যক্তিগত ই-মেইলে তথ্য পাঠিয়ে রাখতে উৎসাহিত করা হতো।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওপেনএআই নতুন কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ চেকলিস্ট সরবরাহ করত, যা অ্যাপলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে তথ্য সংগ্রহে সহায়ক ছিল।

অ্যাপল জানিয়েছে, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওপেনএআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোপন তথ্য সেখানে পৌঁছেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়। তবে ওপেনএআই এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে অ্যাপল।

এদিকে মামলায় অভিযুক্ত ওপেনএআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা, যার মধ্যে ট্যাং ট্যানও রয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আইনি বিরোধ নয়; বরং দ্রুত বিকাশমান এআই হার্ডওয়্যার বাজারে নেতৃত্বের লড়াইও এর পেছনে বড় কারণ। অ্যাপল ও ওপেনএআই উভয়ই ভবিষ্যতের স্মার্ট ডিভাইস বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

Scroll to Top