বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ব্রাজিল সমর্থক ও সাবেক তারকা ফুটবলাররা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও তো সরাসরি কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে বরখাস্তের দাবিই তুলে বসলেন! তবে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) এখনই এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ।
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারের পর এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ জানান রোমারিও। তার মতে, এই ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তির চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। রোমারিও বলেন, ‘ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের উচিত এই মুহূর্তেই ইতালিয়ান কোচের অধ্যায় শেষ করা। এর আইনি বা আর্থিক পরিণতি যা-ই হোক না কেন, আনচেলত্তিকে পদে রাখার কোনো যুক্তি নেই।’
কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের সমালোচনার তির থেকে বাদ যাননি তরুণ তুর্কি এন্দ্রিকও। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ হাতছাড়া করায় এন্দ্রিককে ধুয়ে দিয়েছেন রোমারিও। তার প্রতিভার কথা স্বীকার করেই রোমারিও মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বয়সের অজুহাত খাটে না। এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়া করার কোনো অবকাশ নেই; তা খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা কম হোক বা বেশি।
চারিদিকে যখন আনচেলত্তির বিদায়ের খবর ভেসে বেড়াচ্ছে, তখন ভিন্ন সুর ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ)। সিবিএফের ফুটবল ডিরেক্টর রদ্রিগো কাইতানো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই আনচেলত্তিকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না। গত মে মাসেই চুক্তি নবায়ন করা ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড ২০৩০ বিশ্বকাপ চক্র পর্যন্ত ব্রাজিলের দায়িত্বে বহাল থাকছেন।
ম্যাচ শেষে কোচ আনচেলত্তিও মেনে নিয়েছেন এই হার অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তবে তিনি একে ‘নতুন এক অভিযাত্রার শুরু’ হিসেবে দেখছেন। নেইমারের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত এবং কাসেমিরো-দানিলোর মতো সিনিয়রদের বিদায়ের গুঞ্জনে ব্রাজিলের মধ্যমাঠে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন কোচ নিজেই।




