এবারও শূন্য হাতে ফিরল এশিয়া ও আফ্রিকা

এবারও শূন্য হাতে ফিরল এশিয়া ও আফ্রিকা

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে এশিয়া বিদায় নিয়েছিল আগেই। কোয়ার্টার ফাইনালে একমাত্র আফ্রিকান দল হিসেবে টিকে ছিল মরক্কো। তারাও বিদায় নিল ফ্রান্সের কাছে হেরে। আর এতেই বিশ্বমঞ্চ থেকে আবারও শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে দুই বড় মহাদেশকে।

কাতার বিশ্বকাপে সেমিতে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কোর। এবারের আসরেও গ্রুপ পর্বে পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলোর দুর্দান্ত সূচনা দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব।

মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু নকআউটের চূড়ান্ত মঞ্চে গিয়ে স্নায়ুচাপ, ট্যাকটিকাল পরিপক্বতা আর বেঞ্চের গভীরতার কাছে আরও একবার পরাস্ত হতে হলো তাদের।

ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের পর মরক্কোর কোচ ওয়াহাবিও বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘ফ্রান্সের মতো দলের যে কোয়ালিটি ও ব্যাকআপ শক্তি, তার সাথে লড়াই করা কঠিন।’

মরক্কোর কোচের এই এক লাইনের অকপট স্বীকারোক্তিই মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলের বর্তমান নির্মম বাস্তবতা। গ্রুপ পর্বে গতি দিয়ে অঘটন ঘটানো গেলেও টুর্নামেন্টের শেষভাগে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো।

ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে যে মহাকাব্যের সূচনা করেছিল মরক্কো, ফ্রান্সের কাছে হেরে তা শেষ হওয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফিটা এবারও যাচ্ছে ইউরোপ কিংবা লাতিন আমেরিকাতেই।

এবারের বিশ্বকাপে এই দুই মহাদেশ থেকে সবচেয়ে মরক্কো। কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। আর রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল মিশর। কিন্তু লিওনেল মেসিদের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত হেরে যান মোহামেদ সালাহরা।

এশিয়া মহাদেশ থেকে সবচেয়ে সফল দল জাপান। একমাত্র তারাই নকআউট পর্ব পর্যন্ত উঠতে পেরেছে। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলো এবার রীতিমতো চমক দেখিয়েছে। নয়টি দল নকআউট পর্বে উঠেছে। কিন্তু মরক্কো ও মিশর ছাড়া সবাই বাদ পড়ে রাউন্ড অব ৩২ এ। শেষ ষোলোতে বিদায় নেয় মিশর। আর কোয়ার্টার ফাইনালেই যাত্রা থামল মরক্কোর।

Scroll to Top