
লন্ডন, ৮ জুলাই – চলতি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দৌড়ে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভারের নাম থাকলেও একটি বিশেষ কারণে তার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে। রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে ৪১ বছর বয়সী এই ইংলিশ রেফারিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হতে পারে। মূলত ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের জের ধরে ফিফা এই দীর্ঘস্থায়ী নীতি অনুসরণ করে আসছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা সংশ্লিষ্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে দায়িত্ব না দেওয়ার অলিখিত নিয়ম রয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সৈন্য নিহত হন। এই বিষয়টি এখনো দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে গণ্য হয়। এই কারণে আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচে যেমন ইংলিশ রেফারি দেওয়া হয় না, তেমনি ইংল্যান্ডের ম্যাচেও কোনো আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ করা হয় না।
এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন আরেক ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেলর। সেবার আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় তাকে ম্যাচ পরিচালনার দৌড় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
মাইকেল অলিভার বর্তমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি পরিচালনার মাধ্যমে তার ম্যাচ সংখ্যা সাতে পৌঁছাবে যা যেকোনো ইংলিশ রেফারির জন্য বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড।
এদিকে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিং নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে তিনি অভিযোগ করেন যে আর্জেন্টিনা ভালো খেললেও ফুটবলে সব সময় ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।
এ ছাড়াও মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানোর পরও পরবর্তী ম্যাচে তাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার রেফারিং কমিটি নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এনএন/ ৮ জুলাই ২০২৬







