ঐতিহাসিক জয়ে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিল ইকুয়েডর

ঐতিহাসিক জয়ে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিল ইকুয়েডর

একটা দল বিশ্বকাপ জিতেছে চারবারতাদের প্রতিপক্ষ এই নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতেই এল পঞ্চমবারের মত। কখনো পার করতে পারেনি দ্বিতীয় রাউন্ডের গন্ডি। অথচ তারাই কি না হারিয়ে দিল নিখুঁত যান্ত্রিক ফুটবলের পতাকা বয়ে চলা জার্মানিকে২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের সাক্ষী হয়ে থাকলেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। ম্যাচের শুরুতে গোল পেয়ে এগিয়ে গিয়েও ইকুয়েডরের সঙ্গে জিততে পারেনি জার্মানিহেরে গেছে ২১ গোলে।

কিক অফের পর ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায় জার্মানি। ডি বক্সের ঠিক বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন আলেকজান্ডার পাভলোভিচ। এরপর তার কাছ থেকে বল পেয়ে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ স্কয়ার পাস বাড়ান লেরয় সানের উদ্দেশ্যেআর দারুণ এক প্লেসিং শটে নিখুঁত লোফিনিশে বল জালে পাঠান সানে। তবে জার্মানদের বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে দেয়নি ইকুয়েডর।ডিবক্সের বাইরে থেকে নিলসন অ্যাঙ্গুলোর চমৎকার স্ট্রাইকেসমতা ফেরায় নিরক্ষ রেখার দেশটি!

প্রথম ম্যাচটা ইকুয়েডর ১০তে হেরেছিল আইভরি কোস্টের সঙ্গে আর পরের ম্যাচে গোলশুন্য ড্র করে কুরাসাও এর সঙ্গে। এই বিশ্বকাপে এটাই ইকুয়েডরের প্রথম গোলসেটাও কি না এল গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জার্মানির বিপক্ষে। এখানেই শেষ নয় ইকুয়েডরের স্বপ্নযাত্রা। জার্মান যন্ত্রকে তারা আটকে দিল লাতিন শৈলিতে। উজ্জীবিত গ্যালারিউজ্জীবিত খেলোয়াড় আর একটা জাদুকরি মুহূর্ত।

বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারবিশ্বকাপের জন্যই যার অবসর ভেঙ্গে ফেরা সেই নয়ার এরপর হয়তো কোন বাচ্চাকে কোলে নিতেই ভয় পাবেনবলটা যখন তার হাতের দস্তানার ঠিক উপরে ভাসছেসেখানেই গনসালো প্লাতা বলে পা ছুঁইয়ে দিলেনপাঠিয়ে দিলেন জালের ভেতর। তার আগে ইকুয়েডরের জন্য গোলটা আসি আসি করছিলএকবার তো এনের ভ্যালেন্সিয়ার জোরাল একটা শট দারুণ সেভও করলেন নয়ার। একাধিক আক্রমণ শেষে এসে খেই হারাচ্ছিল। কেভিন রদ্রিগেজের কর্নারে প্লাতার ফ্লিক এনে দিল সেই কাংখিত মুহূর্ত। স্টেডিয়ামের হলুদ অংশ জুড়ে উল্লাসতাদের আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেস ট্যাকটিকাল এরিয়া ছেড়ে গ্যালারির গ্রিল বেয়ে গিয়ে প্রেয়সিকে চুমু খাচ্ছেনএরকম দৃশ্য কেবল ফুটবলই উপহার দিতে পারে।

বিশ্বকাপে লাতিন দলের কাছে জার্মানি হেরেছে মাত্র ৪ বারএর ভেতর দুটো ফাইনাল। ১৯৮৬ আর ২০০২ সালেআর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের কাছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে ১৯৬২ সালে হেরেছিল চিলির কাছে। এরপর এই প্রথম গ্রুপ পর্বে কোন লাতিন দলের কাছে হারল জার্মানি। গেল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই জার্মানরা হেরে গিয়েছিল জাপানের কাছে। এবার গ্রুপ পর্ব শুরু করেছিল কুরাসাও এর বিপক্ষে গোল উৎসবেআইভরি কোস্টের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দানিজ উন্দাভের শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়িয়েছিল জার্মানি আর ইকুয়েডরের কাছে তো হেরেই গেল ২১ গোলে।

অন্য ম্যাচে কুরাসাও এর বিপক্ষে নিকোলাস পেপে এর জোড়া গোলে ২০তে জিতেছে আইভরি কোস্ট।

ই গ্রুপের প্রতিটা দলেরই ৩টা করে ম্যাচ শেষ হলো। ইকুয়েডরের কাছে হারলেও জার্মানিই গ্রুপ চ্যাম্পিয়নআইভরি কোস্টের সঙ্গে সমান ৬ পয়েন্ট হলেও হেডটুহেডে এগিয়ে জার্মানরা। আইভরি কোস্ট রানার্স আপ। তবে ১টা করে হারজয় আর ড্র মিলিয়ে পাওয়া ৪ পয়েন্টে ইকুয়েডর নকআউটে গেল সেরা ৩য় দলের একটি হয়ে।

Scroll to Top