
কিনশাসা, ১৮ জুন – ইবোলা মহামারির কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ঐতিহাসিক সাফল্য দেশজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে। শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে ইয়োয়ান উইসার করা সমতাসূচক গোলটি কঙ্গোকে এনে দিয়েছে অভাবনীয় এক পয়েন্ট।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা সমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে এমন অর্জনে কঙ্গোর রাজপথ উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইবোলা সংক্রমণে বিপর্যস্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতেও মানুষ সাময়িক সময়ের জন্য শোক ও দুশ্চিন্তা ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে।
ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৪ বিশ্বকাপে জায়ার নামে অংশ নেওয়া কঙ্গো কোনো গোল করতে না পারার পাশাপাশি হজম করেছিল ১৪টি গোল। ফলে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় উইসার এই গোলটি বিশ্বমঞ্চে কঙ্গোর প্রথম গোল এবং প্রথম পয়েন্ট অর্জনের গৌরব নিয়ে এসেছে।
ম্যাচ শেষে কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং পুরো দেশের মানুষের এই আনন্দ প্রাপ্য ছিল। বুনিয়া শহরটি বর্তমানে ইবোলা মহামারির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সরকারি তথ্যানুসারে, কঙ্গো ও উগান্ডায় বর্তমানে ৮৩৭ জন এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৬ জন। এর মধ্যে কেবল বুনিয়াতেই ২১৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এমন সংকটের মাঝেও টেলিভিশনের সামনে ফুটবল উপভোগ করাই ছিল স্থানীয়দের প্রধান মানসিক অবলম্বন।
উইসার গোলের পর জীর্ণ দোকানগুলোর সামনে থাকা তরুণরা উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং রাজপথে মোটরবাইকের নানা কসরতে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। সংক্রমণ রুখতে মে মাসের শেষদিকে জনসমাগমে ৫০ জনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলেও ফুটবলের এই আনন্দ সেই বিধিনিষেধকে হার মানিয়েছে।
বারের সামনে উপচে পড়া ভিড়ে ফুটবল অনুরাগীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় এক নারী আন্তোয়ানেত মাকাসি জানান, নিজের দেশের পক্ষে গলা ফাটাতে পারাটা একটা গর্বের বিষয়। তবে জনসমাগমে স্বাস্থ্যবিধির অভাব থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে বাড়ি ফিরে তিনি নিজেকে জীবাণুমুক্ত করবেন। সব মিলিয়ে মহামারি আর মৃত্যুর ভীতির মধ্যেও ফুটবল কঙ্গোবাসীকে ফিরিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকার অনাবিল আনন্দ।
এস এম/ ১৮ জুন ২০২৬







