একটা সময় জয়ের জন্য ২১ বলে অস্ট্রেলিয়ার লাগত ৯ রান, হাতে তখন ৫ উইকেট। সেই ম্যাচটা জয়ের একদম কাছাকাছি চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ! মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরান শরিফুল ইসলাম। তারপর সবচেয়ে বড় বাঁধা কুপার কনোলিকে মোস্তাফিজুর রহমান বোল্ড করলেন ম্যাচ দারুণভাবে জমে উঠে।
শেষ ওভারের সমীকরণ ছিল বাংলাদেশের লাগত ১ উইকেট আর অস্ট্রেলিয়ার ৩ রান। তাসকিন আহমেদের ওভারে সেই সমীকরণ মিলিয়ে ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে আজ ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করে ২৭৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে আস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা শেষ হলো ২-১ ব্যবধানে।
রোববার (১৪ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ২৭৪ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। মিডল অর্ডার থেকে উঠে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিশ। শুরুতে টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিং করেছেন অজি অধিনায়ক।
তবে তার ইনিংসটা বড় হয়নি। দলীয় ৪০ রানে ১২ বলে ফিরেছেন ২১ রান করে। সেই ওভারেই আরেকটা উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেন শরিফুল ইসলাম। তবে ওপেনার কুপার কনোলি একপ্রান্ত দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। মিডল অর্ডারে ক্যামেরুন গ্রিন, মার্নাস লাবুশন দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। যাতে একপ্রান্ত থেকে বাংলাদেশের ওপর চাপ ধরে রাখতে পেরেছেন কুপার।
সেঞ্চুরিই তুলে নিয়েছেন অজি ওপেনার। শরিফুল ইসলাম পুরো ম্যাচ জুড়েই দারুণ বোলিং করেছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি পেসার। তবে বাংলাদেশি পেসাররা শেষ দিকে ঝলক দেখালেও কুপারের সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার শেখ মাহেদি।
এর আগে ব্যাট করে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (২০ বলে ১৯ রান) আজও রান পাননি। তিনে নেমে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে পরে থেকে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছেন। তবে শান্তও বড় স্কোর গড়তে পারেননি। শান্ত ৫০ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
বিপদে পড়া সেই বাংলাদেশকে টেনেছে মিডল অর্ডার। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৯৫ রান তোলেন লিটন-তাওহিদ হৃদয়। এই জুটিতে চাপ কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে দলকে টেনেছেন তাওহিদ হৃদয়। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিটা ছিল ৯০ রানের।
একটা সময় মনে হচ্ছিল দারুণ খেলতে থাকা তাওহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরিও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ৪৬তম ওভারে বেন ডোয়ারশুইসের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন ব্যক্তিগত ৮৩ রানের মাথায়। ৮৮ বল খেলে ৮টি চারের সাহায্যে এই রান করেন হৃদয়।
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আজও ফিফটি পেয়েছেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে দলের বাহিরে থাকা মোসাদ্দেক হুট করে দলে ঢুকে তিন ম্যাচ খেলে আজ দ্বিতীয় ফিফটি পেলেন। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৫১ বলে ৫ চার ১ ছয়ে ৫৬ রানের একটা ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। লিটন দাস একবার হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পরে মাঠ ছেড়েছিলেন। শেষ দিকে আবারও ব্যাটিং করতে নেমে দলের রান বাড়িয়েছেন। লিটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৮ বলে ৪টি চার ২টি ছয়ে ৫৮ রানে। মিরপুর স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে লিটনের প্রথম ফিফটি এটা।
৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ম্যাট রেনশো ও জেভিয়ার বার্টলেট।




