
মস্কো, ১৩ জুন – রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলার ফলে দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি নিজনেকাস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনার পর ক্রেমলিন থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তবে ক্রেমলিন দাবি করেছে যে এই হামলাগুলো রুশ সমাজে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না এবং অর্থনীতি দ্রুত এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী মূলত রাশিয়ার অভ্যন্তরের তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো এবং পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং সম্মুখ সমরে ধীরগতির অগ্রগতির মধ্যে এই হামলাগুলো মস্কোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন যে এই হামলাগুলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে হামলার মূল লক্ষ্য হলো রুশ সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করা। তবে ইউক্রেন যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে সফল হতে পারবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে রাশিয়ার প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই আক্রমণগুলো ন্যায্য প্রতিশোধ। রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে বর্তমান হামলার কারণে উপদ্বীপটিতে নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে ইউক্রেনের সুসমন্বিত হামলাগুলো রাশিয়ার উৎপাদন ও পরিবহন সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি দাবি করেছেন যে মে মাসে তারা রাশিয়া অধিকৃত বেশ কিছু ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
এনএন/ ১৩ জুন ২০২৬







