সফটওয়্যার ডেভলপার ও প্রোগ্রামারদের ‘খারাপ খবর’ দিলেন ইলন মাস্ক | চ্যানেল আই অনলাইন

সফটওয়্যার ডেভলপার ও প্রোগ্রামারদের ‘খারাপ খবর’ দিলেন ইলন মাস্ক | চ্যানেল আই অনলাইন

টেসলা ও এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রচলিত অর্থে কোডিং করার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই হারিয়ে যেতে পারে।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও প্রোগ্রামিংকে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক কোডিং টুলের উত্থানে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাউড কোড এবং কোডেক্সের মতো টুলগুলো শুধু কোড লেখায় সহায়তা করছে না, বরং সম্পূর্ণ সফটওয়্যার আর্কিটেকচার পরিচালনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সমাধান বাস্তবায়নের কাজও করছে।

একটি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাস্ক বলেন, আমার মনে হয়, এই বছরের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে কোডিং করার আর প্রয়োজনই হবে না। এআই সরাসরি বাইনারি তৈরি করতে পারবে এবং প্রচলিত কম্পাইলারের (এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা এক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্যটিতে কোড রূপান্তর করে) তুলনায় আরও দক্ষ ও কার্যকর ফলাফল দেবে।

তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট ফলাফলের জন্য অপটিমাইজড বাইনারি তৈরি করতে এআইকে নির্দেশ দিলেই হবে। তখন প্রচলিত কোডিং প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ধাপ, যা সম্ভবত বছরের শেষের দিকে আর প্রয়োজন হবে না।

এদিকে, এআই টুলের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে প্রযুক্তি খাতে এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ারও ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি প্রকাশিত রেভেলিও ল্যাবস এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির বিজ্ঞাপন ৩৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও প্রোগ্রামিং-সংক্রান্ত পদগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বছর অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ডারিও আমোডি সতর্ক করে বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতে এন্ট্রি-লেভেলের হোয়াইট-কলার চাকরির অর্ধেক পর্যন্ত বিলুপ্ত করে দিতে পারে। তার মতে, এর ফলে বেকারত্বের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে সম্প্রতি তিনি তার অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এনে বলেছেন, এআই শুধু চাকরি কমাবে না, বরং মানুষের কাজের পরিধি ও সক্ষমতাও বাড়াতে পারে। তার মতে, সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মক্ষেত্রে নতুন ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সফটওয়্যার শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলেও মানবিক সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তবে প্রযুক্তি খাতের চাকরির ধরন ও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Scroll to Top