মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি ছবি পোস্ট করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ওই পোস্টে ইরানের মানচিত্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা আচ্ছাদিত একটি ছবি দেখা যায়, যার সঙ্গে তিনি লেখেন, “ ইউনাইটেড স্টেট অফ দ্যা মিডেল ইস্ট?” (মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্র?) ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৪ মে) করা ওই পোস্টটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই এসেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পোস্ট চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন বার্তা আঞ্চলিক মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয়ের মধ্যেই অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ইরাক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের পোস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, তারা ইরান দখল বা দীর্ঘমেয়াদি দখলদারিত্ব চায় না, বরং পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সামরিক অভিযানের ফলাফল হিসেবে শাসন পরিবর্তন ঘটতে পারে যদিও সেটি সরাসরি লক্ষ্য নয়।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যালি নাসরের মতে, এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট চলমান সংবেদনশীল আলোচনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পরই যুদ্ধবিরতিতে অগ্রগতি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বার্তা কূটনৈতিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ইরানিদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এর মধ্যেই উভয় পক্ষই একটি নতুন চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেছেন, দুই পক্ষ “আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি” এসেছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, শিগগিরই নতুন অগ্রগতির তথ্য আসতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং আলোচনায় অবস্থানগুলো ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসছে।
তবে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ।
ট্রাম্প প্রায়ই তার ট্রুথ সোশাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নীতি ঘোষণা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ এবং বিতর্কিত ছবি ও বক্তব্য প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও তিনি একই ধরনের আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এর আগে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি পোস্টে নিজের ছবিসহ “হ্যালো, গ্রীনল্যান্ড!” লিখেও আলোচনায় আসেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের মধ্যে এ ধরনের পোস্ট কূটনৈতিক অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বাস্তবে শান্তি আলোচনা এখনও চলমান এবং উভয় পক্ষই সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলছে।







