আইনগত সহায়তা কার্যক্রম জোরদারে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের আহ্বান | চ্যানেল আই অনলাইন

আইনগত সহায়তা কার্যক্রম জোরদারে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের আহ্বান | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্প) কর্মসূচি।

সভায় বক্তারা বলেন, তথ্য বিনিময়, পর্যবেক্ষণ, সেবা রেফারেল, সমন্বিত পরিকল্পনা ও যৌথ বাস্তবায়নের ঘাটতি দূর করতে পারলে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আপসযোগ্য মামলার বড় অংশ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে বিচার ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে জোরদার করা গেলে স্বল্প সময়েই মামলার চাপ কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি আইনগত সহায়তা বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. খাদেম উল কায়েস বলেন, কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী রেফারেল ব্যবস্থা ও সমন্বিত ডেটাবেজ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

সভায় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, শ্রমজীবী, হিজড়া জনগোষ্ঠী, কারাবন্দি, প্রবাসী পরিবার এবং দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য বিশেষভাবে আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এছাড়া ডিজিটাল আইনগত সহায়তা, অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি এবং প্রি-কেস মেডিয়েশন নিয়েও আলোচনা হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করতে ভূমিকা রাখবে।

Scroll to Top