
ঢাকা, ২১ মে – জাতীয়তাবাদী যুবদলের তিন বছর মেয়াদি কমিটির দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মাত্র সাত সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
তবে সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময়ের পর যুবদলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সে সময় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে সভাপতি মোনায়েম মুন্নার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উৎপাদনমুখী রাজনীতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তবে বর্তমানে সংগঠনটি তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে বলে মনে করেন অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা।
এছাড়া ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সূত্রমতে, ইতোমধ্যে ১৫১ এবং ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট দুটি খসড়া তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে পদপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, এই তালিকায় ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দলের চেয়ারম্যান দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
নেতৃত্বের দৌড়ে মামুন হাসান, গোলাম মাওলা শাহীন, কামরুজ্জামান দুলাল এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। পদপ্রত্যাশী নেতারা আশা করছেন, বিগত দিনের আন্দোলনে সক্রিয় ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করে তারেক রহমান একটি গতিশীল কমিটি উপহার দেবেন।
এস এম/ ২১ মে ২০২৬






