আছিয়া থেকে রামিসা, বিচারের মিছিল থামে না | চ্যানেল আই অনলাইন

আছিয়া থেকে রামিসা, বিচারের মিছিল থামে না | চ্যানেল আই অনলাইন

মিরপুরের পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী সোহেল রানা ধর্ষণের পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় #JusticeForRamisa হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে। অনুরূপ ঘটনায় মাগুরার আছিয়ার কথা তুলে ধরে বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ২০২৫ সালের মার্চে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী ৮ বছরের শিশু মাগুরার আছিয়ার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে পোস্ট করা হচ্ছে। একজন লিখেছেন, “আছিয়া থেকে রামিসা, মৃত্যুর মিছিল থামে না। বিচার হয় না বলেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে।” আরেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী “আছিয়ার ফাঁসির রায় এক বছরেও কার্যকর হয়নি, এখন রামিসা। রাষ্ট্র কী করছে?” হ্যাশট্যাগ দিয়ে  আরেকজন লিখেছেন “#JusticeForRamisa #JusticeForAasiya শিশুরা নিজের বাসায়ও নিরাপদ নয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

আরিফুল ইসলাম নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রামিশার খুনি রাষ্ট্রীয় অতিথি এখন। জেলে থাকবে, তার হয়ত ২-৩ বছর পর ফাসির রায় হবে,সেটা যাবে হাইকোর্ট, তারপর সুপ্রিম কোর্টে। কিছু আইনজীবী দাড়াবে খুনির পক্ষে।
১০-১৫ বছর চলে যাবে। রামিসার বাপের ও আমাদের দেওয়া ভ্যাট-ট্যাক্স এর টাকায় খুনি জেলে তিনবেলা খাবে। আপনার মেয়ে এই জায়গায় থাকলে কি করতেন?

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। ১৫ দিন পর এই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

নুর মোহাম্মদ নামের একজন লিখেছেন, একটা শিশু নিরাপদে বাঁচবে, এটাই তো স্বাভাবিক অধিকার। কিন্তু আজ শিশুরাও নিরাপদ নয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির কঠোর প্রয়োগ হোক। এই দেশ হোক প্রতিটি শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

উল্লেখ্য, ১৯ মে সকালে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পাশের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মাথা বাথরুমে ফেলে রাখা হয়। প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিশ্চিত হবে।

Scroll to Top