২০২৬ বিশ্বকাপ: ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় এফবিআই-এর বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি – DesheBideshe

২০২৬ বিশ্বকাপ: ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় এফবিআই-এর বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি – DesheBideshe


২০২৬ বিশ্বকাপ: ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় এফবিআই-এর বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ২০ মে – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আসন্ন এই আসরে গ্যালারি বা টিম হোটেলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্টেডিয়ামের আকাশসীমা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সৃষ্টি হতে পারে এমন হুমকি মোকাবিলার ওপর।

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী,

২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সম্ভাব্য বিপজ্জনক ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে প্রায় ৬০ জন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যকে মাঠে নামানো হচ্ছে।

বর্তমানে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত এফবিআই’র ন্যাশনাল কাউন্টার ইউএএস ট্রেইনিং সেন্টারে তাদের দুই সপ্তাহের নিবিড় প্রশিক্ষণ চলছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং মিয়ামি-ডেডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুর নিরাপত্তা ইউনিটগুলো সরাসরি এফবিআই’র তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি এবং নিউইয়র্কের মতো হাই প্রোফাইল ভেন্যুগুলোতে ড্রোন প্রতিরোধ অভিযান সরাসরি পরিচালনা করবে এফবিআই। বাকি আটটি আয়োজক শহরের আকাশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ডিটেকশন ও জ্যামিং প্রযুক্তি।

স্টেডিয়ামের ওপরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় কোনো ড্রোন প্রবেশ করলে তা রাডার, বিশেষ ক্যামেরা এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। পরবর্তীতে কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি না করে দূর থেকেই ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ সিগন্যাল জ্যাম করে তা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।

এফবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্য হলো পুরো প্রক্রিয়াটি দর্শকদের কাছে অদৃশ্য রাখা। অর্থাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর থাকবে কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তা স্বাভাবিক মনে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে ড্রোন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কায় এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে দেখা গেছে কীভাবে ছোট ড্রোনগুলো নজরদারি বা নাশকতার কাজে ব্যবহার করা যায়। এই বাস্তবতা বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর নিরাপত্তা কৌশল বদলে দিতে বাধ্য করেছে। বিশ্বকাপের সময় ১১টি আয়োজক শহরে ম্যাচের পাশাপাশি ফ্যান ফেস্টিভ্যাল ও পাবলিক ভিউয়িং জোনগুলোতেও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।

এস এম/ ২০ মে ২০২৬



Scroll to Top